শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় কর্মস্থলে রোগী দেখছেন না চিকিৎসক

নিস্ব প্র্রতিবেদক / ১৩৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

করোনা আতঙ্ক : পাঁচ দিনে ৩ জনের মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় করোনাভাইরাস আতঙ্কে কর্মস্থলে রোগী দেখছেন না চিকিৎসকরা। সকরারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে সব বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একই অবস্থা। এতে ভেঙে পড়েছে জেলার চিকিৎসাসেবা। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় পাঁচ দিনে জেলায় শিশু ও নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, সেখানেও ঠিতমতো বসছেন না ডাক্তাররা। এছাড়াও শহরের কয়েকটি নামিদামি বেসরকারি হাসপাতালেও বসছেন না ডাক্তাররা।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলায় আবাসিক মেডিকেল অফিসারের কক্ষ বন্ধ। আরএমও’র রুমের সামনে রোগীদের নিয়ে ছোটাছুটি করছেন স্বজনরা। পুরো হাসপাতাল ঘুরে জরুরি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটারসহ ৫ জন চিকিৎসককে হাসপাতালে অবস্থান করতে দেখা যায়। তিনজন চিকিৎসক রুমে বসে রোগী দেখছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে ৫৮ পদের বিপরীতে ৩৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তারা তিন সিপটে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া শহরের নামকরা সনো হাসপাতাল, পপুলার ডায়াগনিস্ট সেন্টার ও আমিন ডায়াগনিস্ট সেন্টারে ২০ থেকে জন করে চিকিৎসক নিয়মিত রোগী দেখেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ক্লিনিকে ৩ থেকে ৪ জন করে চিকিৎসক অনিয়মিতভাবে রোগী দেখছেন। এদিকে বিনা চিকিৎসায় শিশু ও নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ময়না খাতুন নামে এক নারী (৪৩) মারা যান। বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই নারীর স্বজনরা। মৃত ওই নারীর স্বামী ইসলাম জানান, ১০ মাস আগে তার স্ত্রী ইউটেরাসের টিউমার অপারেশন করার পর থেকেই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি অ্যাজমাসহ মূত্রনালির সংক্রমণে ভুগছিলেন। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জরুরি বিভাগে নিলে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওই ওয়ার্ডে রেখে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। বিনা চিকিৎসার কারণেই মারা গেছেন বলে অভিযোগ তার। ৮ এপ্রিল বিকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে হৃদরোগে তৈজদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক না পেয়ে তিনি মারা গেছেন। নিহত তৈজদ্দিন কুষ্টিয়া শহরতলীর কুমারগাড়া এলাকার প্রতিষ্ঠিত স্যানেটারি ব্যবসায়ী।

নিহতের ছেলে চাঁদরুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকালে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাবাকে ২নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে কোনো চিকিৎসক না পেয়ে নার্সের সহায়তায় দেয়া হয় অক্সিজেন। ছেলে অভিযোগ করে বলেন, এক ঘণ্টা ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো ডাক্তার পাইনি। অবশেষে বিকাল ৫টায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাবা। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পিপিই ছাড়া কোনো ডাক্তারই এখন রোগী দেখবে না। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত পিপিই নাই। ডাক্তারের সংখ্যা কম থাকলেও সব ক্লিনিকেই চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। আর বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের করা অভিযোগ সঠিক না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর