শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ফার্মাসিস্ট যখন চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০, ৪:১৪ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া শহরের বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের কুমার সানি কমল নামের এক ফার্মাসিস্টের কান্ড দেখে এলাকাবাসী হতবাক হয়েছে।
 তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তিনি দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসকের চেম্বারে বসে চিকিৎসকের অনুপস্থিতে নিজেই চিকিৎসক সেজে রোগী দেখে আসছেন।
গ্রাম অঞ্চলের সহজ-সরল রোগীদের বোকা বানিয়ে ক্লিনিকের চিকিৎসাপত্রে চিকিৎসাসহ রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন তিনি। ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন ওই ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শারমিন আক্তার। ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের মীর মশাররফ হোসেন রোড, কাটাইখানা মোড়ে অবস্থিত কুষ্টিয়া বক্ষব্যাধি ক্লিনিক। বর্তমান ওই ওই ক্লিনিকে একজন মাত্র মেডিক্যাল অফিসার রয়েছেন, তিনি হলেন ডাক্তার শারমিন আক্তার। ওই ক্লিনিকের আরেকজন মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আসাদুজ্জামান ফিরোজ। তিনি ইতিপূর্বে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হন। যার কারণে তিনি সাসপেন্ড হয়ে আছেন। বর্তমান ডাক্তার শারমিন আক্তার ওই ক্লিনিকটি চালাচ্ছেন। কুষ্টিয়ার অন্যান্য চিকিৎসকদের মতো তিনিও প্রাইভেট রোগী দেখতে ও বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে ব্যস্ত থাকেন। অফিস সময়ে তাকে ক্লিনিকে পাওয়া যায় না। আর এই সুযোগটি কাজে লাগান ফার্মাসিস্ট কমল। তার সাথে সখ্যতা রয়েছে শহরের কতিপয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিকদের সাথে। রোগীদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পাঠিয়ে সেখান থেকে বাগিয়ে নেন কমিশন।  সম্প্রতি কুষ্টিয়া শহরের এক রোগী ওই ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গেলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। গত বুধবার ওই ক্লিনিকে সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে যান  ফার্মাসিস্ট কমল। ক্লিনিকের অন্যান্য স্টাফরা উপস্থিত থাকলেও ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার শারমিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন না। তবে সাংবাদিকরা এসেছে, সংবাদ পেয়ে তিনি ছুটে আসেন এবং সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। কারণ ফার্মাসিস্ট ফেঁসে গেলে তিনিও ফেঁসে যাবেন। তার অনুপস্থিতিতে ফার্মাসিস্ট কমল রোগী দেখেন সেটি তিনি জানতেন। ক্লিনিকে বসে রোগী দেখেন ফার্মাসিস্ট আর ম্যাডাম প্রাইভেট নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এটাই বাস্তবতা। দুজনেই অতিরিক্ত টাকা আয় করতে অনিয়ম করে আসছেন। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে না পেরে তিনি ছুটে যান সিভিল সার্জনকে ম্যানেজ করতে।
 এ ব্যাপারেে অভিযুক্ত ফার্মাসিস্ট্ কমলের   ০১৭১৭৭৬০৫৩৮ নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডাক্তার এইচ এম আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে তিনি বলেন ওই ফার্মাসিস্টের কোন অধিকার নেই রোগী দেখার আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে লিখিত নোটিশ করব।
 উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া শহরের কাস্টম মোড়ে অবস্থিত শাপলা ক্লিনিকে  সিজারিয়ান অপারেশনের পর ভুল চিকিৎসায় শাপলা (২৫) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়। এ অপারেশনটি করেন ডাক্তার শারমিন আক্তার।
 নিহত গৃহবধূ শাপলা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সুন্দিনন্দলালপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানার স্ত্রী। 
 কুষ্টিয়া বক্ষব্যাধি  ক্লিনিকের চিকিৎসক ডাক্তার শারমিন  ও ডাক্তার সাবনাজ মুস্তারি রোগির সিজারিয়ান অপারেশন করলে পুত্র সন্তান প্রসব করেন ওই রোগী। এ অপারেশনের পর থেকেই রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রোগীকে ফেলে রাখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। গভীর রাতে হঠাৎ ওই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে পরের দিন ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে রোগী মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মৃত্যুবরণ করে। এ সময় সেখানে রোগীর স্বজনদের আহাজারিতে স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দেয়। এ সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরবর্তীতে সেখানে সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
এ ঘটনায় ভাম্যমান আদালত ওই ক্লিনিক সিলগালা করে দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর