শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার ছাগল পালন করতে হলে টাকা দেয়া লাগে গ্রামের মাতব্বরদের

অনলাইন ডেস্ক / ৮৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০, ৫:১৯ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের স্বর্গপুর গ্রাম দীর্ঘদিন চলছে মাতব্বরদের বানানো আইনে। রাষ্ট্রীয় আইনকে উপেক্ষা করে কয়েকজন প্রভাবশালী সমাজপতিদের চাপিয়ে দেয়া আইনে চলছে এই গ্রাম। নিজেদের গ্রামীণ প্রভাব ও নিজস্ব গোষ্ঠীর কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে আলামপুর ইউনিয়নের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজস্ব আইন চালু করেছেন স্বর্গপুর গ্রামে। যেটা রাষ্ট্রীয় সংবিধান পরিপন্থি।

ইউপি সদস্য মুন্সি কুবান আলী, নজরুল শেখ, মতিয়ার রহমান মিলে স্বর্গপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আইন চালু করেছেন, ওই গ্রামে কোনো ব্যক্তিই ছাগল পালন করতে পারবেন না। যদি কেউ তাদের এই আইন অমান্য করে ছাগল পালন করেন তবে ৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। আর এই জরিমানার টাকা এলাকার উন্নয়ন ফান্ডে জমা করার নামে অর্থ আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে গ্রামের অসহায় মানুষকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ফাঁদ পেতেছেন তাঁরা। জরিমানা কেউ না দিতে চাইলে তাদেরকে একঘরে করে রাখারও বিধান রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্বর্গপুর গ্রামে গাছ, বাগান নষ্ট করার অযুহাতে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য মুন্সি কুরবান আলী, নজরুল শেখ, মতিয়ার রহমান মিলে ওই গ্রামে ছাগল পালন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জোর করে গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষ কথা বলতেও সাহস পান না। গ্রামের বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারীরা স্বাবলম্বী হতে ছাগল কিনলেও গ্রামের এই তিন মাতব্বরের হুমকিতে কেউ বিক্রি করে দিয়েছেন নয়তো অন্য কোনো গ্রামে আত্মীয়র বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, অসহায় আমরা কেউ বিধবা আবার কেউ স্বামী পরিত্যক্তা। আমরা একটা ছাগল পালন করলেও আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হতে পারি, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। মাতব্বররা নিজেরা আইন করে ছাগল পালন বন্ধ করে রেখেছে। সরকার যেখানে প্রতিটি বাড়িকে খামারে রূপান্তর করতে চাচ্ছে সেখানে আমাদের গ্রামে ছাগল পালন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা গ্রামবাসীরা চাই গ্রামের মাতব্বরদের এই আইন বন্ধ হোক। মাতব্বররা নিজেদের গোষ্ঠীর লোকজন মিলে এই আইন গ্রামের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এর প্রতিকার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলামপুর ইউপি সদস্য মুন্সি কুরবান আলী বলেন, ছাগল পালন নিয়ে এলাকায় ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগে থাকে। তাই এই গ্রামের মানুষ কেউ ছাগল পালতে চায় না। সে কারনেই আমরা এই গ্রামে ছাগল পালন বন্ধ করে দিয়েছি।

অপর অভিযুক্ত মতিয়ার রহমান বলেন, গ্রামের নিজস্ব আইন আছে, সেই আইনেই গ্রাম চলে। সবাই মিলে বসে ছাগল পালন বন্ধ করা হয়েছে। জরিমানার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জরিমানার টাকা গ্রামের উন্নয়ন ফান্ডে জমা হবে। সেই টাকা দিয়ে গ্রামের উন্নয়ন কাজ করা হবে।

টাকাটা কার কাছে জমা হয় এবং কি কাজ করা হয়, এর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

আরেক অভিযুক্ত নজরুল শেখের কাছে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সিরাজ উদ্দিন শেখ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটলে বিষয়টি অন্যায় ও বেআইনি। গরিব মানুষ ছাগল পুষবে, সমস্যা কোথায়? আপনারা একটু পত্রিকায় লিখে ওই গ্রামে ছাগল পালনের জন্য ব্যবস্থা করে দেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেলে এমন কিছু আমরা হতে দেবো না। আর যদি কেউ ছাগল পালনে বাধা দেয় বা কারো কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেয় তবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর