রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:০৯ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় মীম হত্যার ১৬ দিনেও আসামীরা পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:৩৯ অপরাহ্ন
যৌতুকের বদলে জীবন দিতে হলো গৃহবধূ মীমকে!

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত গৃহবধূ তাসমীম আক্তার মীমের সঙ্গে গত ১ সেপ্টেম্বর কি হয়েছিল। আর কেনোই বা স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে ১৫ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে না ফেরার দেশে চলে যান গৃহবধূ তাসমিম মীম। এই নিয়ে জেলাজুড়ে নানান জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে গৃহবধূ তাসমিম মীম হত্যার ঘটনার ১৬ দিনেও এ হত্যা মামলার দুই আসামী স্বামী এজাজ আহমেদ বাপ্পি ও শাশুড়ি কোহিনুর গ্রেফতার হয়নি। এঘটনায় পর থেকেই পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এতে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তারা।
মীমের মা তাজমা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,গত ১ সেপ্টেম্বর মীম আমাদের বাড়িতে এসে দুপুরের খাবার খাওয়ার কথা ছিল। সকালে ফোন তার পছন্দের খাবার রান্না করতে বলে। আমি মীমের পছন্দের খাবার রান্না করি। অপেক্ষায় ছিলাম মেয়েটা কখন এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলবে আম্মু খুব ক্ষুধা লাগছে খেতে দেও। তা আর হলো কই? আমার মেয়েটা আর কখনই দুপুরের খাবার খাবে না বলে হু হু করে কেঁদে ফেলেন তিনি। মিমের বিয়ের পর তার স্বামীর বাড়িতে সকল জিনিসপত্র দিয়েছি। এরপর থেকেই মোটরসাইকেল ‘যৌতুক দিতে হবে বলে দাবি করে বসেন তারা। এটাও দিতে চেয়েছিলাম। আমার অসুষ্ঠতার কারণে অনেক টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় তা দিতে সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু ‘যৌতুক লোভী জামাই ও তার মা কাছে যেন হেরে গেলাম। ‘যৌতুক দিতে না পেরে অবশেষে জীবনটাই দিয়ে দিতে হলো আমার মেয়েটার।
আমার মেয়ের সাথে যারা এমন অপরাধ করেছে তাদের বিচার কি হবে? আমি এই জীবনের আর কিছুই চাই না শুধু মিমের সাথে যারা এমন অত্যাচার করেছে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন মেয়ে হারা মা তাজমা খাতুন।
মীমের পিতা মহিবল বলেন,ঘটনার পরই দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ বলে আপনার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এসবের কোনো মামলা হয় না। এখানে পুলিশের কিছু করার নেই’ আরও কত কি। থানার তখনকার দায়িত্বরত (ওসি) মামলা নিতে চাননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তারপরই থানায় যোগদান করা বর্তমান দায়িত্বরত ওসি মিমের দাফন সম্পন্ন করে এজাহার নিয়ে আসার কথা বলে। মিমের দাফন সম্পন্ন করে এজাহার নিয়ে গেলে মামলা নথিভুক্ত করেন। মিম হত্যার ঘটনার ১৬ দিনেও এ হত্যা মামলার দুই আসামী স্বামী ও শাশুড়ি কে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামীরা পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
দৌলতপুর থানার (ওসি) জহুরুল আলম বলেন,আসামীদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত মীম হত্যা মামলার আসামী স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিয়ের পর থেকেই স্বামী বাপ্পি ও শাশুড়ি কোহিনুর মোটরসাইকেল যৌতুক দিতে হবে বলে দাবি করতে থাকেন। এতে গৃহবধূ মিমকে উঠতে-বসতে নানান ধরনের কথা শুনান। এই নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে গুরুত্বর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে মারা যান মীম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.