শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

মুখ দেখে করোনার ত্রাণ

ঢাকা অফিস / ৮০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০, ৫:৩২ পূর্বাহ্ন

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি গরিব, অসহায়, দিনমজুরী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন, ঘোষণা করেছেন বিভিন্ন প্রণোদনা।

সেই প্রণোদনার ত্রাণসামগ্রী বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জনপ্রতিনিধিদের। এরই মধ্যে অনেকেই সেই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। আবার অনেকে করছেন। কিন্তু সেই ত্রাণ বিতরণে রয়েছে অনেক অভিযোগ। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের কাছে লোক কিংবা মুখ দেখেই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন। ত্রাণ পাওয়ার মতো যোগ্য যারা তারাই অনেক ক্ষেত্রে বি ত হচ্ছেন। এছাড়া দলীয়করণ করা হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের অফিস-আদালত। দেশব্যাপী অঘোষিত চলছে লকডাউন। বৈশ্বিক এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। আর এই ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু তার নির্দেশনা সত্তেও করোনা ভাইরাসের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই ত্রাণের চাল চুরি। চাল চুরির ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই বেশি জড়িত বলে অভিযোগ আছে। চাল চুরি থেকে শুরু করে বিতরণে রয়েছে অনেক অনিয়ম।

ক্ষুধার জ্বালা যখন আর সইতে পারছেন না তখন নিজের পছন্দের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের তালিকা করে রিলিফের চাল দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান। এটা সহ্য করতে না পেরে ত্রাণের ২৬ বস্তা চাল লুট করেছেন প্রকৃত দুস্থরা। কুষ্টিয়ার খোকসায় লুট হয়ে ত্রাণের সেই ২৬ বস্তা চাল প্রশাসন এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। তবে ত্রাণ বণ্টন নিয়ে গ্রামবাসী ও ইউপি চেয়ারম্যান পরস্পরবিরোধী কথা বলছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে কুষ্টিয়ার খোকসার ওসমানপুর ইউনিয়নের ঘরবন্দি দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণের চাল ভুক্তভোগীদের ঘরে পৌঁছে দেয়ার সময় লুটের ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসী জানান, চেয়ারম্যান গ্রামের ধনী ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের নামে রিলিফ দিয়েছেন। তাই প্রকৃত দুস্থরা ত্রাণের চাল ছিনিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। গ্রামবাসীর সঙ্গে একমত পোষণ করে ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মঞ্জুরুল হক বলেন, চেয়ারম্যান তার দলীয় ও পছন্দের ধনী মানুষের নামে ত্রাণ দিয়েছেন। প্রকৃত দুস্থরা ত্রাণ পাননি। তারাই রিলিফের চাল লুট করেছেন।

চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জানান, মেম্বার তার লোকদের দিয়ে ত্রাণের ২৬ বস্তা চালসহ খাদ্যসামগ্রী লুট করিয়েছেন। এ সময় এলাকার চি?হ্নিত সন্ত্রাসীরা এ কাজে সহায়তা করেন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, প্রকৃত দুস্থ যারা তারা রিলিফ লুট করে নিয়ে গেছেন। সচ্ছল লোকেরাই ত্রাণ পেয়েছে কিন্তু খেটে খাওয়া দুস্থ মানুষের নাম ওই তালিকায় ছিল না।

অন্যদিকে নগরীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কিছু মানুষ ছুটছে ত্রাণের পেছনে। কোথাও ত্রাণ বিতরণের খবর পেলেই কয়েকজনে মিলে অটোরিকশা নিয়ে ছুটে যায় সেখানে। কর্মহীন মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় দিগি¦দিক ছুটছে। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা পড়েছেন বিপাকে। অন্য ওয়ার্ডের লোকজন আইডি কার্ড নিয়ে ছোটেন আরেক ভিন্ন ওয়ার্ডে। নিজের এলাকা ব্যতীত কাউকে ত্রাণ দিচ্ছেন না কাউন্সিলররা। কর্মহীন মানুষের মধ্য থেকে অভিযোগ উঠছে-মুখ চিনে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন করা হয়েছে। কাজ করতে না পেরে অনাহারে থাকছেন দিনমজুররা। তাদের জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করাও হচ্ছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত না। অনেক এলাকায় মুখ চিনে চিনে এসব সহায়তা সামগ্রী বিতরণের অভিযোগও উঠেছে।

জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি খুলনা সিটি কর্পোরেশনও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু করে। তবে যারা জনপ্রতিনিধির কাছের লোক, তারাই নামের তালিকা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এসব ত্রাণ। এছাড়াও দলীয় লোক না হলে ভাগ্যে জুটছে না সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ।

এদিকে একাধিক জনপ্রতিনিধি জানায়, তারা কোনো বাছবিচার না করেই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এখন সময় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর। যারা মুখ চিনে বিতরণ করছেন, তারা ভালো করছেন না।

ভুক্তভোগীরা জানান, এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছের লোক কিংবা দলীয় লোকদের বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। তালিকা করার ক্ষেত্রে মেম্বাররা নিজের দলের লোকদের খুঁজে খুঁজে ত্রাণ দিয়ে থাকেন। কিন্তু অন্য দল সমর্থন করে এমন অসহায় ও হতদরিদ্র লোককেও ত্রাণ না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

করোনার ত্রাণেও ভোটার খুঁজছে জনপ্রতিনিধি। ত্রাণ বিতরণে কোনোরূপ অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে একটা কথা বলতে চাই, ত্রাণ বিতরণে কোনোরূপ অনিয়ম সহ্য করা হবে না। খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাণ নিয়ে যারাই ছিনিমিনি খেলবে, তারা যেই হোক, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সূত্র- মানবকণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.