শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত -২ পাংশা পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৭ জন কুষ্টিয়ায় দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দালালের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা রোগীরা কুষ্টিয়ার ইবি থানার রাস্তার বেহাল দশায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ কুমারখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় শ্রমিক নেতা নিহত কুমারখালী বাশগ্রাম বাজারে মহানবী (সাঃ) কে কটুক্তি করায় ছন্দ ষ্টুডিও ঘেরাও করেছে তৌহিদী জনতা ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার প্রতিবাদে ভিপি নূরের নেতৃত্বে রাজধানীতে মশাল মিছিল কুষ্টিয়ায় ঘাতক ট্রাক্টর কেরে নিল কোরআনে হাফেজ ফারুকের জীবন কুষ্টিয়ার সু-স্বাদু তিলের খাজা, দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ১৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১

কুষ্টিয়ায় জমি দখলে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদরে মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৯:০৪ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার এনআইডি জালিয়াতি করে শত কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সহ- সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী মহিবুল ইসলাম গতকাল সোমবার কুষ্টিয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য দিয়েছেন। মহিবুল তার জবানবন্দীতে জানিয়েছেন এ জালিয়াত চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও তার সাথে আরো ৭ থেকে ৮জন ছিলেন। তারায় এনআইডি জালিয়াতিসহ অন্য কাজ আগেই করে রাখেন। মহিবুল জানিয়েছেন, চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য এ ঘটনায় দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে দুটি বৈঠকে হাজী রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জবানবন্দীতে উল্লেখ্য করেছেন, বৈঠকে হাজী রবিউল ইসলাম তাকে এই মর্মে নিশ্চিত করেন যে, জমি রেজিষ্ট্রির পর ৭৭ লাখ ২০ হাজার টাকা তাকে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আরো ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এই লোভে তিনি অর্থ বিনিয়োগ করেন।

এসব বৈঠকে হাজী রবিউল ইসলাম ছাড়াও সদ্য বিলুপ্ত কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজন, হরিপুর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম, পূর্ব মজমপুর এলাকার আসাদুর রহমান বাবুসহ চক্রের ৬/৭ জন সদস্য যোগ দিতেন। এ জমি নিলে কোন সমস্যা হলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি রবিউল দেখবেন বলে আশ্বস্ত করছেন। এ জন্য মহিবুল তাকে ৩০ লাখ টাকাও দেন। একটি জালিয়াত চক্র কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মৌজার প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২২ শতক জমির ভুয়া মালিক সেজে মাত্র ৭৭ লাখ টাকায় মহিবুল ইসলামের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন। জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে অন্যের জমি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে দখল করাার অভিযোগে করা মামলায় কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজি রবিউল ইসলামের ভাতিজি আশরাফুজ্জামান সুজন(৫০)সহ ৭জনকে গ্রেফতার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায়, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে নিজেরায় ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে রেজিষ্ট্রেশন দলিলের মাধমে হস্তান্তর প্রকিয়ায় অন্যের জায়গা-জমি দখল করে আসছিলো। এঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর শহরের এন এস রোডের বাসিন্দা এম এম এ ওয়াদুদ এই প্রতারক চক্রের ১৮ সদস্যের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার বাদি তার এজাহারে উল্লেখ করেন, সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্র ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে কুষ্টিয়া সাব- রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে দলিল সম্পাদন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদির প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ ভু-সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার সন্ধা পর্যন্ত কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃত ওই
জালিয়াত চক্রের জমি বিক্রেতাগণ হলেন- কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার খন্দকার

আবুল হোসেন ছেলে মোঃ ওয়াদুল ওরফে মিন্টু খন্দকার(৬০), কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে মোঃ মিলন হোসেন(৩৮), মিন্টু খন্দকারের বোন লাহিনী দাসপাড়ার বাসিন্দা সাত্তার শেখের স্ত্রী ছানোয়ারা খাতুন(৫০) এবং অপর বোন
খন্দকার আব্দুল আজিজেরর স্ত্রী মোছাঃ জাহানারা খাতুন(৪৫)। একই সাথে পরিচয়পত্র
জালিয়াতি করে জমি রেজিষ্ট্রেশনের ঘটনায় ক্রেতা হিসেবে জড়িত মিরপুর উপজেলার
সাহাজ উদ্দিনের ছেলে মহিবুল ইসলাম(৪৫) এবং ক্রয়-বিক্রয়ে লগ্নিকৃত অর্থদাতা
কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার এলাকার হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে
মহিবুল ইসলাম(৪০) কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ আছে, কুষ্টিয়ায়
দীর্ঘদিন ধরে সরকারী-বেসরকাররী রাস্তা, মাঠ, খাল-বিল, নদী, জলাশয় কিংবা ব্যক্তি
মালিকানাধীন ভু-সম্পত্তি, বাড়ি, মার্কেটসহ নানা স্থাপনা জোড় পূর্বক দখলের
মহোৎসব চলছে নির্বিঘ্নে। এসব কর্মকান্ড হয়ে থাকে পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় শিল্পপতি বা রাজনৈতি প্রভাবশালীদের ধারাবাহিক দখলবাজির বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়নি কেউ বা কোন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি।

তবে গত বছরের জুনে একটি মার্কেট গুড়িয়ে জবর দখলের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অভিযোগ আদালতের নজরে আসলে বাধা হন আদালত। বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়াধীন থাকলেও সেসব তোয়াক্কা না করেই দখলবাজরা সেখানে গড়ে তুলেছে স্থাপনা। গত ১০জুন, ২০১৯ তারিখে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পশ্চিম বটতৈল এলাকার রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মামলিকানা স্বত্ত্ব দখলীয় ও রেকর্ডভুক্ত জমির উপর নির্মিত ২২টি দোকান বিশিষ্ট ‘প্রমানিক মার্কেট’ নামের দ্বি-তল ভবনটি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের যোগসাজসে গুড়িয়ে দিয়ে জবর দখলের অভিযোগ ঘটনাস্থলেরই ‘কেএনবি এগ্রো ইন্ডা: লি:’ নামক একটি পোল্ট্রি, মৎস ও পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানা মালিক কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ওই শিল্পপতির দাবি জমিটি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে ইজারা সূত্রে প্রাপ্ত। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রাকিবুল ইসলাম বাদি হয়ে আড়াই কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের দাবি করে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, শিল্পপতি কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের আরও তিন কর্মকর্তার নাম উল্লেখসহ ১২-১৫জন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে দ:বি: ১২০(খ)/১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪০৩/১০৯ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত রাকিবুল অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরের বিজ্ঞ বিচারক রেজাউল করীম এর আদালতে মামলা করেন।

অভিযোগ আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত ঘটনার তদন্তসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারকে। অভিযোগ আছে, ইতোপূর্বে এজাতীয় প্রভাবশালীদের দখলবাজির ঘটনায় কোন ক্ষতিগ্রস্ত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রতিকার চেয়ে ন্যায় বিচার প্রর্থনা করে আদালত পর্যন্তও ভয়ে আসতে পারতো না। এবারই প্রথম এমন জবর দখলের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অভিযোগ আমলে নিয়েছেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক। জেলা পরিষদের দাবি জমিটি তাদের মালিকানাভুক্ত। যদিও নিটকস্থ সংশ্লিষ্ট জগতি ইউনিয়ন ভুমি অফিসের রেকর্ড সুত্রের বরাত দিয়ে ভুমি কর্মকর্তা বলছেন, ঘটনাস্থলের জমিটি নিকট ৫০বছরের রেকর্ড মতে ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে রাজস্ব সংগৃহীত হচ্ছে। হঠাৎ করে জেলা পরিষদের দাবিকৃত তথ্যের কোন সত্যতা তাদের কাছে নেই বলে নিশ্চিত করেন তিনি। এছাড়াও উল্লেখিত বটতৈল মৌজার খতিয়ান নং আর এস ৯৫৮ দাগ নং ২০২৮এর আংশিক জমির ব্যক্তি মালিকানা স্বত্ত্বাধিকার হিসেবে বিআরবি গ্রুপের অংগ প্রতিষ্ঠান এমআরএস ফিলিং ষ্টেশন বহাল তবিয়তে বিদ্যমান। অন্যদিকে জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত ইজারাকৃত জমির চৌহদ্দি সনাক্তে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে সরেজমিন পুলিশী তদন্তকালে ঘটনাস্থলকে যেভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেই তথ্যের মধ্যে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে বলে বাদির আইনজীবী আদালতের নজরে আনেন।

একই ভাবে জাতীয় গৃহায়নকর্তৃপক্ষ কতৃক স্বল্প আয়ের পেশাজীবীদের বরাদ্দ ও রেজিষ্ট্রিকৃত ২১২টি হাউজিং প্লট জেলা পরিষদের চেয়াম্যান কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম বিধি বহির্ভুত ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ ভাবে দখল করেন বলে অভিযোগ কতৃপক্ষের। সেখানে স্থাপনাও নির্মান করছেন বলে অভিযোগ করেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কুষ্টিয়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। এছাড়া নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মহাশস্মান সংলগ্ন গড়াই নদীর বিস্তৃীর্ন এলাকাজুড়ে জেলা পরিষদ ইকোপার্কের নামে স্থাপনা নির্মান শুরু করেছেন বলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃপক্ষের অভিযোগ রয়েছে। সবকিছুই বিধি বহির্ভুত ভাবে করছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়াও কুষ্টিয়া ভেড়ামারা মহাসড়কের পাশর্^স্ত বারখাদা এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভু-সম্পত্তি যা ব্যাংকের কাছে মটগেজকৃত সেখানেও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ অবৈধ ভাবে দখলে নিয়ে বালি ভরাট করে মার্কেট নির্মানের চেষ্টাকালে স্থানীয়দের বাধারমুখে সেখান থেকে পিছু হঠতে বাধ্য হন জেলা পরিষদ। এভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদের শীর্ষপদে থেকে হাজি রবিউল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে দখলবাজির ফলে কয়েক’শ ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী বিচার প্রার্থনা করে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ঘুরছেন দিন মাস বছরের পর বছর ধরে। অন্যদিকে তাদের চোখের সামনে দখলকৃত জমিতে গড়ে উঠছে বিশালাকৃত সব স্থাপনা। কিছুই করার নেই তাদের। এবিষয়ে জেলা প্রশাসন বরাবরের ন্যায় গতানুগতিক বক্তব্যে বলছেন, কারো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে জবর দখল হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে সর্বশেষ বাস্তবতা হলো- আদালতের নির্দেশে জেলা পুলিশের শীর্ষকর্মকর্তার উপর ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব অর্পিত হলেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ বর্তমানে বদলিকৃত) একেএম জহিরুল ইসলাম কর্তৃক আদালতে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার বাস্তব চিত্র বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের অব্যহতিদানের সুপারিশ কার্যত: দখলবাজির সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নগ্ন যোগসাজসের দৃষ্টান্ত যা বে-আইনী ও ন্যায় বিচারের অন্তরায় বলে অভিযোগ এনেছেন বাদির আইনজীবী এবং তা বাতিলের উদ্দেশ্যে গত ৬আগষ্ট আদালতে নারাজি দরখাস্ত দাখিল করেন তিনি। বিজ্ঞ আদালত উভয়পক্ষের শুনানী শেষে অভিযোগটি মামলা হিসেবে আমলে নেন এবং এজাহার নামীয় ১নং আসামী কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সি মো: মনিরুজ্জান ছাড়া বাকি অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হওয়ার সমন জারি করেছেন যা কার্যত: পুলিশের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর হিসেবে গন্য করে। মার্কেট ভেঙ্গে জমি জবর দখলের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বলে দাবি করে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল আজম বলেন, জেলা পরিষদ কর্তৃক কোন উচ্ছেদের প্রয়োজ হলে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন শৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতিতে তা বাস্তবায়ন করা হয়। তড়িঘরি করে ইজারা প্রাপ্ত শিল্পপতি কামরুজ্জামান নিজেই তার লোকজন নিয়ে বুলডোজার ও এ্যাস্কেভেটর দিয়ে মার্কেটটি ভেঙ্গে অপসারন করেছেন। তাছাড়া এসব দখল করার আমি কে ? আমি এখানে চাকরী করি, এখানে যা কিছুই হোক বা আমি করি না কেন সেসব জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহীর সিদ্ধান্তে আমাকে যা করতে বলা হয়, আমি তাই করি। কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, দলীয় শৃংখলা ভঙ্গসহ জালিয়াতি ও প্রতারণা মূলক অপরাধে জড়িত এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করলে কেন্দ্রীয় কমিটি প্রেরিত চিঠিতে শহর যুবলীগের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। সেকারনে বিলুপ্ত কমিটি আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনের কোন অপরাধের দায় যুবলীগ বহন করবে না। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত জানান, কয়েকটি টিভি চ্যানেলে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়তি করে অন্যের জমি কেনা-বেচা ও দখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরায় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত কুষ্টিয়াশহরের এন এস রোডের বাসিন্দা এম এম ওয়াদুদের করা জালিয়াতি মামলার এজাহার নামীয় ৭জন আসামীদের নিজ বাড়ি ও বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এস বজালিয়াত ও প্রতারক চক্রের সকল হোতাকেই গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম বলেন, কিছু ব্যক্তি আমার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ঈর্শ্বাম্বিত হয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই মিথ্যা অপপ্রচার করছে। ভোটার আইডি কার্ড জালিয়াতি, জমি জালিয়াতি যেসব ব্যক্তিদের নাম এসেছে তাদের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই এবং তাদের চিনিও না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.