শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

৩ সপ্তাহ উপসর্গ ছাড়া করোনা বহন করতে পারে শিশুরা : গবেষণা

ঢাকা অফিস / ৪৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০, ৯:৪৯ অপরাহ্ন

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তারে শিশুদের ভূমিকা অবাক করছে বিজ্ঞানীদের। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিন সপ্তাহ পর্যন্ত নাকের ভেতর ভাইরাসটি বহন করে বেড়াতে পারে শিশুরা। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার ২২ হাসপাতাল থেকে ৯১ শিশুর মেডিক্যাল উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার মেডিক্যাল সাময়িকী জামা’য় প্রকাশিত গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ চিলড্রেন’স ন্যাশনাল হসপিটালের চিকিৎসকরা। এর আগেও বহু গবেষণায় একইরকম তথ্য দেখা গেছে। এসব গবেষণা থেকে ইঙ্গিত মিলছে, শিশুরা গুরুতরভাবে আক্রান্ত না হয়েও ভাইরাসটির বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে। এমতাবস্থায়, বিশ্বজুড়ে স্কুল খোলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও ডয়েচে ভেলে। বৃটেনের রয়াল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের প্রেসিডেন্ট, অধ্যাপক রাসেল ভাইনার ব্যাখ্যা করে বলেন, শিশু ও কোভিড-১৯ নিয়ে তিনটি আলাদা কিন্তু সংযুক্ত প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যতদূর নিশ্চিতভাবে জানি তা হচ্ছে, শিশুরা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়। এন্টিবডি পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে বয়স্কদের তুলনায় তাদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা কম, বিশেষ করে ১২ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এটা বেশি প্রয়োগযোগ্য। বিজ্ঞানীরা এ বিষয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী যে, বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের সংক্রমণ মৃদু হয়। শুক্রবার প্রকাশিত এক বৃটিশ গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইরাসটি তাদের গুরুতরভাবে অসুস্থ করে তুলতে পারে না। অনেকের মধ্যে কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। অন্য কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত না থাকলে ভাইরাসটিতে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ও নিবির পরিচর্যার প্রয়োজন অতিসামান্য। তবে স্থূল, কৃষ্ণাঙ্গ ও জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের হালকা ঝুঁকি রয়েছে। ভাইনার বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণাটি শিশু ও কোভিড-১৯ নিয়ে তৃতীয় প্রশ্নটি তুলে এনেছে। এ প্রশ্নের উত্তরই আমাদের কম জানা। গবেষণাটি অনুসারে, ২২ হাসপাতালের ওই ৯১ শিশুদের অনেকের মধ্যেই খুব মৃদু ও অল্প উপসর্গ দেখা গেছে বা কোনো উপসর্গই দেখা যায়নি। কিন্তু শনাক্তের তিন সপ্তাহ পরও তাদের নাকের ভেতর ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটা বেশ উদ্বেগের বিষয়। এই গবেষণার গবেষকরা বলেন, তিন সপ্তাহ পরও তাদের নাকের ভেতর ভাইরাস ধরা পড়ার মানে হচ্ছে, তাদের মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। গবেষণাটির এক গবেষক ড. রবার্তা দে বিয়াসি জানান, এমনটা ভাবা অযৌক্তিক যে, ভাইরাসটির বিস্তারে শিশুদের ভূমিকা নেই। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কোরীয় কর্তৃপক্ষ, ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে উপসর্গ নেই এমন ব্যক্তিদেরও পরীক্ষা করেছে। তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করেছে। শিশুদের ওপর গবেষণাটির জন্য যথাযথ জায়গা সেটি। এদিকে, শিশুদের মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক অধ্যাপক ক্যালাম সেম্পলে বলেন, শিশুদের শ্বাসযন্ত্রে ভাইরাসটির জেনেটিক উপকরণ পাওয়া মানেই এই নয় যে, তারা ভাইরাসটি সমানভাবে ছড়িয়ে বেড়ায়। বিশেষ করে, কাশি বা হাঁচির মতো উপসর্গ না থাকা ব্যক্তিদের ভাইরাসটি ছড়ানোর হার খুবই কম। বিজ্ঞানীদের মতে, উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গ নিয়ে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিরা ভাইরাসটি কম ছড়িয়ে থাকেন। বিশেষ করে কাশি নেই এমন আক্রান্তদের কাছ থেকে ভাইরাসটি কম ছড়ায়। আর শিশুরা সাধারণত উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গ নিয়েই আক্রান্ত হয়ে থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.