বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে শিক্ষক আমিরুলের বিরুদ্ধে হাক্কানী দরবারের পরিচালক সিপাহীর মামলা কুষ্টিয়ায় ভুয়াভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা দিতে এসে দুই জনকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান সাংবাদিক এএইচ মিলন আর নেই বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিয্য ঢেঁকি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দরকার সংরক্ষণ দৈনিক হাওয়া ২৫ নভেম্বর ২০২০ ইং। কুষ্টিয়া মঙ্গলবাড়িয়ায় ৬বছরের শিশুর গায়ে আগুন লাগিয়ে হত্যার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় দূর্ঘটনায় এক মটরসাইকেল আরোহী নিহত কুষ্টিয়ায় ৫২ বোতল ফেনসিডিল সহ একজন আটক কুষ্টিয়া চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের ৬ মাস বেতন-ভাতা বন্ধ,১৯ বছরে লোকসান ৪১৫ কোটি কুষ্টিয়ায় চাল আত্মসাতের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থপাচার বাড়ছে

ঢাকা অফিস / ৫৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০, ৯:৪৪ অপরাহ্ন

বছরে পাচার হচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা

দেশের বেশ কিছু অসাধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিশেষজ্ঞ আমন্ত্রণ, মেলা, সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ ইত্যাদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে অর্থ পাচার করছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, বিদেশি কর্মীদের বেতন দেওয়ার নামেও পাচার করা হচ্ছে অর্থ। অসাধু এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্থপাচারের এই চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাভার এলাকার ফ্যাশন জোনস লিমিটেড ২০১৯ সালে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে সাতবার বিশেষজ্ঞ আমন্ত্রণ করে। বিশেষজ্ঞ ফি দেখানো হয় ৫৬ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো হয় ৮১ লাখ টাকা। অতিরিক্ত অর্থ পাচার করা হয়েছে। গাজীপুরের সোয়েটার হাউস লিমিটেড পণ্য প্রদর্শনের জন্য ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আটবার বিদেশে মেলা ও সেমিনারে অংশ নিতে প্রতিনিধিদল পাঠায়। এর জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত ব্যয় হয় ৭৭ লাখ টাকা। তবে এনবিআরের তদন্তে দেখা গেছে, এ খাতে খরচ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অতিরিক্ত অর্থ পাচার করা হয়। রাজধানীর শ্যামলী এলাকার টেক্সকোন টেক্সটাইল লিমিটেড ২০১৭ সালে তিনবার যন্ত্রপাতি আমদানির কথা বলে ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ ৪৫৬ টাকা বিদেশে পাঠায়। এনবিআরের তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতপক্ষে ৪৩ লাখ ২০৩ টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি করে। বাকি অর্থ যন্ত্রপাতি কেনার নামে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাচার করা হয়েছে। শুধু এই প্রতিষ্ঠানগুলোই নয়, এমন আরো অনেক প্রতিষ্ঠান অভিনব এই কৌশলে বিদেশে অর্থ পাচার করছে। সাধারণত একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাসে দুই থেকে ১০ বার বিশেষজ্ঞ আনে। মাসে পাঁচ থেকে ১৫টি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে। মেলা, সভা-সেমিনারে অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রতি মাসে অন্তত ২০ বার বিদেশে যায়। বছরে তিনবারের বেশি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করে। একজন বিদেশি কর্মীকে প্রতি মাসে দুই লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন দেয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০ জন উচ্চ বেতনের বিদেশি কর্মী কাজ করেন। এসব খাতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বছরে অনেক প্রতিষ্ঠান ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত পাচার করছে। এ হিসাবে দেশের অসাধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বছরে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ আমন্ত্রণ, বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, সভা-সেমিনার, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির নামে খুব কৌশলে অর্থ পাচার করা হয়। এ খাতে পাচার বন্ধে এনবিআরকে আরো কঠোর হতে হবে।’ এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘কোন কোন খাতে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা বের করতে পারলে পাচার বন্ধ করা সম্ভব। এনবিআরের সক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে। ফলে পাচারের কৌশলগুলো চিহ্নিত করা যাচ্ছে। আর ব্যাংকিং চ্যানেলে আমাদের দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসাবের চেয়ে বেশি পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছে কি না, তা জানতে হলে যে দেশে অর্থ পাঠানো হচ্ছে সে দেশে আমাদের কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের আইনি ক্ষমতা থাকতে হবে। তাহলেই এভাবে অর্থ পাচার করা বন্ধ হবে।’ বিশেষজ্ঞ আমন্ত্রণ : এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিতে বা নতুন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানায়। প্রশিক্ষণ দিতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের বেশি আনা হয়। প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতেও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের বেশি দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দেয়। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের বিদেশ থেকে আনতে, আবার বিদেশে ফেরত পাঠাতে বিমানের টিকিট দিতে হয়, দেশে অবস্থানকালে ঘোরাফেরায় পরিবহন খরচ, উন্নত মানের হোটেলে রাখা, খাওয়া ইত্যাদির জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় হয়। এসব ব্যয় প্রতিষ্ঠানের রিটার্নে ব্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়। আর বিশেষজ্ঞদের ফি হিসেবে যে অর্থ দেওয়া হয় তা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো হয়। এনবিআরের তদন্তে দেখা গেছে, ফি হিসেবে যে অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো হয় তা নির্ধারিত অর্থের অনেক গুণ বেশি। এই অতিরিক্ত অর্থ পরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নিজেদের কাছে নিয়ে নেয়। এভাবে সুকৌশলে বিদেশে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। মেলা, সভা-সেমিনার : বিদেশে মেলা, সভা-সেমিনারে অংশ নিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি পাঠানো হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট ফি ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে হয়। এ ছাড়া প্রতিনিধিদের থাকা, খাওয়া, সেখানে চলাচলের খরচের অর্থও ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো হয়। অর্থপাচারকারী অসাধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যে অর্থ খরচ হওয়ার কথা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ পাঠায়। অতিরিক্ত অর্থ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিদেশে নিজেদের সুবিধামতো সময়ে নিয়ে নেন। এভাবে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি : মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির নামেও বড় অঙ্কের অর্থ পাচার করা হয়। বেশি পরিমাণে এবং বেশি দামের যন্ত্রপাতি আনার নামে ব্যাংকে এলসি খুলে বিদেশে অর্থ পাঠানো হলেও আনা হচ্ছে কম দামে কম পরিমাণ যন্ত্রপাতি। বেশি পরিমাণে অর্থ পাঠিয়ে কম দামে ও কম পরিমাণে মূলধনী যন্ত্রপাতি এনে পাচার করা হচ্ছে অর্থ। বিদেশি কর্মীর বেতন-ভাতা : অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীরা কাজ করছেন। এসব কর্মীর বেতন-ভাতা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো হয়। যে পরিমাণ বেতন নির্ধারিত থাকে, ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো হয় তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। পরে ওই বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ বিদেশে নিয়ে নেওয়া হয়। এভাবে সুকৌশলে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.