রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

মিলারদের অসত্য তথ্যে উর্দ্ধমুখী চালের দাম নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থতার দায় নিচ্ছেন না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০, ৯:০৪ অপরাহ্ন

যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দফাই দফাই চালের দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক নিয়মে পরিনত হয়েছে। চাল মিলার ও ট্রেডিং সিন্ডিকেটের কারিগড়ি কারসাজি জেনেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বয়হীনতার কারণে বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন উদ্যোগই কাজে আসছে না চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে। টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খাদ্য নিরাপত্তা। এখাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সরকারের নানামুখী কর্মপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নেও সুফল পাচ্ছেনা জনগন। এমনকি মোটা ধান পাওয়া যাচ্ছে না এমন অসত্য তথ্যের যোগসাজসে সরকারী খাদ্য মজুতকেও জিম্মি করছেন মিলাররা। খাদ্য যোগানে নাভিশ^াস দেশের ৭০%ভাগ সাধারণ চালক্রেতা/ভোক্তাদের। বাজার নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থতাকেই দায়ি করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ভুক্তভোগীদের। কুষ্টিয়া মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা জামিরুল ইসলাম বলেন, বাজারে চাল সরবরাহে কোন ঘাটতি বা সংকট নাই। ধানের বাজার দর সরকার নির্ধারিত মন প্রতি ১হাজার ৪০ টাকারও নীচে। তবুও গত জানুয়ারী থেকে দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে সর্বশেষ কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে চালের দাম।সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের অটো চালক মিজারুল জানান, ‘সরকারও বলতেচে খাদ্য ঘাটতি নি, আমরাও তাই জানি, তালি কি কারনে এই সংকটকালে বাজারে চালির দাম বাড়তি ? সরকার কি এসব দ্যাখতেচ না, এম্বা যদি চলতিই থাকে মানুষ মরি চুচা হয়ে যাবিনি’। কারা কাস্সাজি (কারসাজি) কত্তেচে, পোশাসন যায়ে তারে ধত্তি হবি’।বাজারে মোটা ধানের সংকট আছে মিলারদের এই অসত্য তথ্য নাকচ করছেন ধান গবেষনা, বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ধান গবেষনা ইষ্টিটিউটের বীজ ব্যাংকের তথ্যমতে, সারা দেশের উৎপাদিত মোট ধানের ৭০%ভাগের বেশী মোটা ও মাঝারি মোটা শ্রেনীর। এক্ষেত্রে সরকারী খাদ্য মজুত বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কেউ যদি মোটা চল সরবরাহের চুক্তি করেও তা না দেন তাহলে সেটা হবে হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। চাল মিলারদের দেয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, ধান কেনার পর সব ধরনের খরচ সংযোজনসহ চাল বাজারজাত পর্যন্ত প্রতি ১মন চাল উৎপাদন খরচ হয় ১১০টাকা বা কেজি প্রতি চালের উৎপাদন খরচ হয় ২.৫০টাকা। তবে ১মণ ফ্রেস চাল উৎপাদন শেষে কালো চাল, খুদ, কুড়া, ভুষি এবং রাইসব্যান পলিসের মতো বায়ো প্রডাক্ট থেকে আয় হয় ১শ ৫০ থেকে ২শ টাকা। বাংলাদেশ অটোরাইচ মিল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, চলতি অর্থ বছরে মৌসুম শুরু থেকেই ধানের বাজার দর বৃদ্ধি। সেই কারনই চালের দামে উর্দ্ধগতি। এমন পরিস্থিতিতে চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে সরকার যে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা হবে আরও একটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। এতে বেশী দামে ধান কিনে মিলাররা চরম ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সরকারী এই সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করেন। বাংলাদেশ মেজর অটো ও হাস্কিং মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রশিদ এগ্রো লি:র স্বত্ত্বাধিকার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ধান ও চালের বাজার দর নির্ধারণে কারো যদি কোন কারসাজি থাকে তাহলে কোথায় কিভাবে ট্রেডিং ব্যবসায়ী, মিলার, পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ের কোনখানে কতটুকু হয়েছে বা হচ্ছে বা যদি হয়ে থাকে তাহলে সে দায় এককভাবে মিলাররা নিতে বাজি নয়। সমস্যাটা কোথা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের উপর বেশী চাপাচাপি করলে আমরা জেলা প্রশাসনকে ডেকে বলব, দ্যাখেন বর্তমান ধানের বাজার দর এই, আামাদের উৎপাদন খরচ এই, চালের দাম পড়বে এই, আপনারা বললে আমরা প্রডাকশনে যাবো নচেৎ মিল বন্ধ করে দেবো’। কুষ্টিয়ার জ্যেষ্ঠ বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘চাল বাজারে মিলার ও ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে কারসাজি করে বাজার দর বৃদ্ধির সত্যতা আছে। এরকম কৃত্রিম সংকটসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির দায়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইতোপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিবারই তারা অঙ্গীকার করলেও পরক্ষনেই আবার লংঘন করছেন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারের উচ্চ পর্যায় হতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নাই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এ কে এম হাসিবুল হাসান বলেন,‘ধান উৎপাদন, সরবরাহ ও সংকট সম্পর্কে চাল মিলার/ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যের কোন ভিত্তি নাই। প্রকৃত অর্থে দেশ এখন কেবলমাত্র খাদ্যে সয়ং সম্পূর্নই নয় বরং উদ্ধৃত্ত খাদ্যের দেশ। এইটা যদি সত্যি হয় তাহলে দামবৃদ্ধি বা সংকটের কথা সাংঘর্ষিক। এসব খোড়া যুক্তি দেখিয়ে কার্যত: তাদের অপকর্মকে আড়াল বা জায়েজ করতে চাইছেন। এমন অভিযোগ করে তিনি সংকট উত্তোরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার দাবি করেন। কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) এসএম তাহসিনুল হক প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, ‘নানা সমস্যার কথা বলে সরকারের সাথে সম্পাদিত ধান/চাল সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও চাল না দিয়ে সরকারের খাদ্য মজুত প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিপূর্ন করছেন মিলার/ব্যবসায়ীরা। এসব জানা সত্ত্বেও কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেই বলেই চালের বাজার তাদের খেয়াল খুশিতে নিয়ন্ত্রিত। আইন থাকলেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারী নির্দেশনা না থাকায় কোন কিছুই ফলপ্রসু হচ্ছেনা অভিযোগ করে খাদ্য, কৃষি ও বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের সমন্বয়ে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ’। বলে মনে করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.