বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

নখদন্তহীন বাঘ নয়, বিড়ালে পরিণত হবে নির্বাচন কমিশন : মাহবুব তালুকদার

ঢাকা অফিস / ৫৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০, ৮:৫৭ অপরাহ্ন

আরপিও সংশোধনীতে বিস্ময় প্রকাশ ও প্রতিবাদ

প্রস্তাবিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনী (আরপিও) এবং স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা আইনের বিরোধিতা করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। পাশাপাশি আরপিও’কে একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনন্য স্মারক উল্লেখ করে এর সংশোধনীতে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। পাশপাশি এর প্রতিবাদও করেন তিনি। এদিকে নির্বাচন কমিশনের সভায় আবারো তার নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্ন মত) দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশন থেকে ছিনিয়ে নেয়া হলে নির্বাচন কমিশন নখদন্তহীন বাঘ নয়, বিড়ালে পরিণত হবে। তাই প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা এককভাবে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা আবশ্যক। রাজধানীর আগারগাওস্থ নির্বাচন ভবনে সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬৯তম কমিশন বৈঠক শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন। কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিলের একক ক্ষমতা থেকে সরে আসা নির্বাচন কমিশনের একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, আমি সবিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ইতোপূর্বে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ রহিত করে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ২০২০ বিল’র খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতে, এই প্রস্তাবে ১১টি মৌলিক ও পদ্ধতিগত বিধান বাদ দিয়ে খসড়াটি উক্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, আরপিও বা ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’র ৯১-ই ধারায় কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতা, যা নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত ছিল, তার বিলোপ সাধন। এ ধারাটি সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।’ পূর্ববর্তী কমিশনও ধরনের উদ্যোগ নিলেও সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, রকিবউদ্দীন কমিশন এটি বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে এবং পরে ওই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। প্রার্থিতা সরাসরি বাতিলের একক ক্ষমতা থেকে সরে আসা নির্বাচন কমিশনের একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। এতে নির্বাচন কমিশন নখদন্তহীন বাঘ নয়, বিড়ালে পরিণত হবে। তিনি বলেন, আমি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি। আমার মতে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা এককভাবে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা আবশ্যক। নির্বাচন কমিশনের ২৪ আগস্ট ২০২০ তারিখের ৬৯তম সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ রহিতপূর্বক সংশোধনসহ গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ২০২০’ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমি এ উদ্যোগের সম্পূর্ণ বিরোধী। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের তৃতীয় অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ প্রণয়ন ও জারি করেন। এটি একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনন্য স্মারক। কী কারণে বা কোনো যুক্তিতে এই পরিবর্তন প্রয়োজন, তা আমার বোধগম্য নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনায় এ প্রসঙ্গে কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা আইনের সংস্কারের যে প্রস্তাব করেছে, আমি তার সঙ্গেও একমত নই। কেবল নির্বাচন পরিচালনার জন্য ভিন্ন আইন হতে পারে না, তা সার্বজনীন হতে হবে। তিনি বলেন, এতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কাঠামো, মেয়াদকাল ইত্যাদি পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য নয়। বিশেষত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদ ও পদবি পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয়। এই সংস্কার কার্যক্রম নিতান্তই স্থানীয় সরকারের বিষয়। বর্ণিত অবস্থায় আমি উল্লিখিত তিনটি বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.