শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

করোনার টিকায় বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেবে ভারত

অনলাইন ডেস্ক / ৫৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০, ৮:২৩ পূর্বাহ্ন

ভারতে করোনার ভ্যাকসিন (টিকা) উৎপাদিত হলে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে জানিয়ে দেশটির সফররত পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ভ্যাকসিন উৎপাদনের পর অগ্রাধিকার পাওয়া দেশের তালিকায় থাকবে বাংলাদেশ। কেননা বাংলাদেশ আমাদের কাছে সব সময় অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা একটি দেশ। তিনি জানান, ভারতের ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের কাজ চলছে। ভারত ব্যাপক আকারে এই ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন। দুই দিনের ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করেন। আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। গত মঙ্গলবার দুই দিনের (১৮ ও ১৯ আগস্ট) আকস্মিক সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে করোনাকালীন অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা, ঋণচুক্তি, বিদু্যৎ খাত, অবকাঠামো খাতসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির পাশাপাশি বাবল এয়ার, জয়েন্ট কনসালটেটিভ মিটিং, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ভারতে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের ফেরত প্রক্রিয়া শুরু, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, করোনার কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মুজিববর্ষ পালন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন, বিভিন্ন মিথ্যা ও নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের বিষয়সহ একাধিক বিষয়ে হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় সীমান্ত হত্যাকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, কোভিড মোকাবিলার অংশ হিসেবে ভারতে ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। আমরা বলেছি ওই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত। ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। সে দেশে যে ভ্যাকসিন উৎপাদিত হবে তা শুধু ভারতের জন্যই নয়, আমাদেরও দেওয়া হবে। ভারতের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা ভারতের সহযোগিতা চেয়েছি। তিনি বলেন, এ সময়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়- তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পূর্বে দুই দেশের মধ্যে নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, দুই দেশের মধ্যে ঋণচুক্তি, বিদু্যৎ খাত, অবকাঠামো খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্পৃক্ততা রয়েছে। এগুলোর কিছু কিছু কাজ থেমে গিয়েছিল। এখানে যে ভারতের লোকগুলো কাজ করছিল সেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু এখন আবার ভারতের লোকজনের আসা শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এয়ার বাবলের প্রস্তাব দিয়েছি। এটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে এবং আশা করছি এটি আমরা দ্রম্নত করে ফেলতে পারব। এক্ষেত্রে সুবিধা হবে যে, প্রচুর বাংলাদেশি ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল তাদের যাতায়াত শুরু হবে। ভারতের অনেক বিশেষজ্ঞও আসার সুযোগটা পাবেন। এইসব বিবেচনায় এনে এয়ার বাবল দ্রম্নত শুরু হতে পারে।

মাসুদ বিন মোমেন জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) সভা দ্রম্নত আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর একটি ভালো দিক হচ্ছে বিভিন্ন লাইনে মন্ত্রণালয়ে যে প্রকল্পগুলো আছে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা যাবে। এতে করে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আরও দ্রম্নত হবে। দুই দেশের সুবিধা অনুযায়ী এই বৈঠক হবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যেসব অস্বস্তিকর বিষয় আছে তা নিয়েও বৈঠকে কথা হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, আমরা সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছর প্রথম সাত মাসে সংখ্যাটি বেড়ে গেছে বিভিন্ন সময় থেকে এবং এ বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। আগামী মাসে বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। ওই বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃতু্যর ঘটনা না ঘটে।

ভারতের কিছু জায়গায় আটকে থাকা বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ধুবরি এলাকায় ২৬ জন জেলে আটকে আছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব আশ্বস্ত করেছেন ওই লোকজন যাতে দ্রম্নত দেশে ফিরতে পারে সে জন্য তিনি সহযোগিতা করবেন। তাবলিগ জামাতের কিছু লোক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসেছেন এবং আরও শতাধিক লোক এখনো ভারতে রয়ে গেছেন। তাদের ফেরত আনার বিষয়টি চলমান রয়েছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইসু্যতে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ভারত নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করবে। রোহিঙ্গা ইসু্যতে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাসের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। পরিষদের কয়েক স্থায়ী সদস্যের বিরোধিতার কারণে এটি হয়নি। আমরা ভারতের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের ভালো সম্পর্ক আছে। অবকাঠামোসহ বেশ কিছু জিনিস তৈরি করে দিচ্ছেন রোহিঙ্গাদের জন্য। এগুলো যেন অব্যাহত থাকে, প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দেয় এবং নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনায় যেন আমাদের সহযোগিতা করে সে জন্য ভারতকে বলেছি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান বছরের বাকি সময়ে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। পররাষ্ট্রসচিব জানান, কোভিডের কারণে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটি পালন করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ভারত জাতিসংঘ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে এ অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, সামনের বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। একই বছর দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও সুবর্ণজয়ন্তী। এ নিয়ে আমরা আলাদা অনুষ্ঠান করব, এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে বেশ কিছু মিথ্যা নেতিবাচক সংবাদ বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ওইসব সংবাদ নিয়ে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আছে, আমাদের সম্পর্কের যে বর্তমান অবস্থা উন্নততর আছে, আলোচনার মাধ্যমে এই মেসেজটি যাতে দিতে পারি সে চেষ্টা করা দরকার।0Shares

প্রথম পাতা | আরও খবর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর