শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

১ শতাংশ জমি ৫০০ টাকা!

ঢাকা অফিস / ৯৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০, ৯:০৬ অপরাহ্ন

‘পানির দরে’ কমপক্ষে ২০ খ জমি কিনেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী এবং তার স্ত্রী দিলরুবা পারভীন ইলোরা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান প্রতিবেদনে রমজান-ইলোরা দম্পতির পানির দরে জমি কেনার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের কেনা জমিগুলোর রেজিস্ট্রি মূল্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে দুদক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেজিস্ট্রি মূল্য অনেক কম দেখানো হলেও এসব জমির প্রকৃত বাজারদর অনেক বেশি। তাই দুদক রমজান দম্পতির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মামলা করেছে। তদন্তের পর অভিযোগপত্রে জমির প্রকৃত দামসহ বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরা হবে। রমজান আলী বর্তমানে রেলওয়ের ‘আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পের জিএম (এএলএএলডিপি)। রমজান আলী ও তার স্ত্রী দিলরুবা পারভীন ইলোরার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিক। কমিশনে দাখিল করা তার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রমজান আলীর বয়স ৫৬ বছর। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বেড়া ভিটাপাড়া গ্রামে। রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় তার বাড়ি রয়েছে। তিনি ১৯৮৯ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে গত বছর ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, রজমান আলী সাঁথিয়ার সরিষাফরিদ মৌজায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি কিনেছেন মাত্র সাড়ে ৭ হাজার টাকায়, আলাদা দলিলে একই মৌজায় ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন ২০ হাজার টাকায়, সোয়া ৪০ শতাংশ কিনেছেন ২০ হাজার টাকায় এবং সাড়ে ১৫ শতাংশ কিনেছেন ৮ হাজার টাকায়। এছাড়াও রমজান আলী পৃথক পৃথক দলিলে সরিষাফরিদ মৌজায় ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন ৪৫ হাজার টাকায়, ১৯ শতাংশ জমি কিনেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায়, সাড়ে ৯ শতাংশ জমি কিনেছেন ৫০ হাজার টাকায়, ১০ শতাংশ জমি কিনেছেন ৫০ হাজার টাকায়, সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি কিনেছেন ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায়, ২০ শতাংশ ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকায় এবং সাড়ে ৩১ শতাংশ জমি কিনেছেন ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। তিনি একটি গাড়ি কিনেছেন ১২ লাখ টাকায়। এর বাইরে রমজান আলী গুলশান রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল অনুযায়ী রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় তিন কাঠার প্লট কিনেছেন ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৮২৫ টাকায়। এই জমিতে আটতলা ভবন তৈরিতে তার খরচ হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ঘুষ-দুর্নীতির টাকায় পানির দরে জমি কেনা প্রকৌশলী রমজান আলীর ওই আবাসিক এলাকার বাড়িটি ক্রোক করা হয়েছে। নিজের মতো স্ত্রী দিলরুবা পারভীন ইলোরার নামেও পানির দরে জমি কিনেছেন রমজান। দুদকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইলোরার বয়স ৫৩ বছর। জামালপুরের সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের হেবাবিষয়ক ঘোষণাপত্র অনুযায়ী তিনি ৬ শতাংশ জমির মালিক। সেখানে প্রতি তলায় ১৮৯১ বর্গফুট আয়তনের পাঁচতলা ভবন তৈরিতে তার খচর হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা। রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় তিন কাঠা জমি কিনেছেন ১৬ লাখ ৯২ হাজার টাকায়। জামালপুরের সিংজানি আমলাপাড়া এলাকায় অন্য হেবা হিসেবে পাওয়া জমিতে পাঁচতলা বাড়ি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৮২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় তিন কাঠা জমির প্লট কিনেছেন ২৬ লাখ টাকায়। পাবনার সাঁথিয়ায় সরিষাফরিদ মৌজায় ২১ শতাংশ জমি কিনেছেন ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, একই মৌজায় ২০ শতাংশ জমি কিনেছেন ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকায়, ১৬ শতাংশ জমি কিনেছেন ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকায়, ৩০ শতাংশ কিনেছেন ৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় এবং সাড়ে ১৬ শতাংশ কিনেছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ইলোরার মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৮৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ লাখ ৭ হাজার টাকা। দুদকের আবেদনের পর দিলরুবা পারভীন ইলোরার মালিকানাধীন ওই আবাসিক এলাকার তিনটি প্লট ক্রোক করেছে ঢাকার মহানগর স্পেশাল জজ আদালত। অনুসন্ধান প্রতিবেদনের আলোকে কমিশন রমজান আলী ও দিলরুবা পারভীন ইলোরার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়। গতকাল রবিবার দুদকের উপপরিচালক মো. আবু কবর সিদ্দিক রমজান আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ দুর্নীতি দমন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করেছে। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য জানিয়ে বলেন, শিগগিরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রকৌশলী রমজান আলী ও তার স্ত্রী ‘পানির দামে’ জমি কিনেছেন উল্লেখ করে দুদকের এক পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা জমির রেজিস্ট্রি মূল্য যেটা দেখিয়েছে সেটার ওপর মামলা করা হয়েছে। তদন্তের সময় বিষয়গুলো আমলে নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে বেশি দরে ওইসব জমি কেনার প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযোগপত্রে বিষয়টি উল্লেখ করা হবে।’ পানির দরে জমি কেনার বিষয়ে জানতে রমজান আলীর মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর