রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

স্থান নিদ্ধারনে জটিলতা : কুমারখালী মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প থমকে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০, ৮:৫০ অপরাহ্ন

শুধুমাত্র স্থান নিদ্ধারনে ক্ষেত্রে বারবার জটিলতার কারনে কুমারখালী মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প থমকে গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে সংসয়। মুজিববর্ষে দেশের উপজেলা পর্যায়ে একশতটি স্থাপনা নির্মান সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও কুমারখালীতে এটা আলোর মুখ দেখলো না, যা কুমারখালীবাসীর জন্য দুর্ভাগ্য বৈকি! বর্তমান সরকার প্রতি উপজেলায় একটি করে মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ‘প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে সারা দেশে। এ প্রকল্পের প্রথম ১১টি মসজিদের নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের মার্চে প্রথম শুরু হয়। পরের বছর থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়নাধীন। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭২২ কোটি ৫ লাখ ৮ হাজার টাকা। মডেল মসজিদগুলোর জন্য চারতলা বিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মিত হবে। নারীদের জন্য নামাজের আলাদা কক্ষ থাকবে সেখানে। তাছাড়া ইসলামী সং¯ৃ‹তি চর্চার কেন্দ্রও হবে এই কমপ্লেক্স ভবনটি। মসজিদের স্থান চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করে নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য প্রশাসনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোনো মূল্যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সেটা উপেক্ষিত। এখনও কুমারখালী উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য স্থান নিদ্ধারন করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। জেলার অন্যান্য উপজেলায় অত্র প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও কুমারখালীতে কেবলমাত্র স্থান নিদ্ধারনের প্রচেষ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ইফার পক্ষ হতে চিঠি এলে উপজেলা প্রশাসন কাজ শুরু করে। তারা উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরের মসজিদের স্থানকে প্রথম পছন্দে আনেন। কিন্ত মাপজোক করার পর সেখানে জমির পরিমান কম হলে সেটা থেকে সরে আসতে হয়। দ্বিতীয়বার জায়গা নির্বাচন করা হয় উপজেলা পরিষদের পশ্চিম পাশের বিশাল ডোবা। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অত্র ডোবার পাশের মার্কেট উচ্ছেদ করে এলাকাটি খালিও করা হয়। কুমারখালী-যদুবয়রা সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের দিন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজও উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। এজন্য ভিত্তিফলকও স্থাপন করা হয়। কিন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এতবড় স্থাপনা ডোবা ভরাটের মাধ্যমে না করার পরামর্শ দিলে দ্বিতীয়বারের মত কুমারখালী মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন বাধাগ্রস্থ হয়ে যায়। এর পর তৃতীয়বার স্থান নিদ্ধারনে নড়েসরে বসে প্রশাসন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পৌর মেয়র এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবার গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে বার বার বৈঠক করেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় কুমারখালী বড় জামে মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ১৪ কোটি টাকার টেন্ডারও সম্পন্ন হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জে ডিলাক্র চ্যানেল লিঃ কাজ পান। কিন্ত বিধিবাম, তৃতীয়বার নিদ্ধারিত বড় মসজিদের স্থান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। অনেকেই শহরের ভেতরে অবস্থিত কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনাটি না ভাঙ্গার পক্ষে জোরালো মতামত দেন। তাছাড়া বড় জামে মসজিদটি ওয়াক্ফ এস্টেটের আওতায় থাকায় আইনী জটিলতাও উঠে আসে। ফলে কুমারখালী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শেষ বারের মত ভেস্তে গেছে। জানা যায়, ইফার হেড অফিস ২০১৫ সালের ২ফেব্র“য়ারী প্রথম জেলা প্রশাসক বরাবর জমি নিদ্ধারনের জন্য পত্র দেন। তারই আলোকে ২০১৭ সালের ২৯ মে উপজেলা প্রশাসন বুজরুখ দূর্গাপুর মৌজার ১০৪৭ নং দাগের ৩৫ শতক জমি নির্ধারন করেন। কিন্ত ইফা ২১মে তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর পুনরায় কমপক্ষে ৪০ শতক জমির চাহিদা জানালে কাজের অগ্রগতি থমকে পড়ে। এরপর নতুন করে উপজেলা প্রশাসন ১১সেপ্টেম্বর আবার ৪০ শতক জমি নির্ধারন করে ইফা ও জেলা প্রশাসককে লিখিত দেন। এক বছর বিষয়টি চাপা পড়ে থাকার পর ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের চাহিদার প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া ডিসি অফিস পুনরায় কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তথ্য চান। এরই মধ্যে স্থান নির্ধারণ না হলেও উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের সাইনবোর্ড স্থাপনের জন্য ২০১৮ সালের ২২অক্টোবর ইফার হেড অফিস জেলা অফিস বরাবর পত্র পাঠায়। ফলে কুষ্টিয়া ইফা নির্ধারিত স্থানে আনুষ্ঠানিক ভাবে নামফলক স্থাপনের উদ্যোগী হন। নির্ধারিত দিনে স্থানীয় এমপি ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ নামফলক স্থাপনের জন্য উপস্থিত ছিলেন। তিনিসহ অন্যান্যরা উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করার স্থানটি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমপি শেষ পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালককে ২৯আগষ্ট ২০১৯ তারিখে ডিও নং সঃ সঃ ৭৮, কু-৪ ২০১৯/১৬৪ স্মারকে মসজিদের স্থান পরিবর্তন ও নতুন স্থান নির্ধারনের জন্য পত্র দেন। এমপি উপজেলা পরিষদের পশ্চিম পাশের ডোবাটি ভরাট করার মাধ্যমে সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলেন। সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে স্থান নির্বাচন ও চিঠি চালাচালি শুরু হয়। কিন্ত ডোবা ভরাট করে ভবন নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ বেঁকে বসে। ফলে আবার আটকে যায় কার্যক্রম। নতুন করে ভাবনা শুরু করে স্থানীয় আ‘লীগের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসন ও ইফা। তারা বড় জামে মসজিদকে ভেঙ্গে সেখানে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করার ইচ্ছা পোষন করলেও সফল হয়নি। বড় মসজিদ কমিটি নারাজি ও ওয়াকফ স্টেট হওয়ায় সেটাও ভেস্তে যায়। শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়া ইফা কার্যালয় ২০১৯ সালের ৪জুলাই উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করার ক্ষেত্রে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর স্থানও সীমানা/চৌহদ্দি নির্ধারণ করার জন্য পত্র দেয়। কিন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে স্থান নির্ধারন করে পত্রের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুই বার দুই স্থানে মাটি পরীক্ষাও হয়েছে, অথচ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছেনা। এব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, তিনটি স্থান নির্ধারনের জন্য যাচাই-বাছাই চলছে। অচিরেই একটি নির্দিষ্ট হয়ে কাজ উদ্বোধন করা হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জে ডিলাক্র চ্যানেল লিমিটেডের এমডি কাজী কবীর এবিষয়ে বলেন, কাজ শুরু করতে না পারার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, আমরা কাজ পেয়েছি-পে অর্ডার আটকে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.