রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১০:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কুমারখালীতে মাস্ক পরিধান না করায় মোবাইল কোর্টে ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা নাইজেরিয়ায় ধান ক্ষেতে ৪৩ চাষীকে জবাই কুমারখালী গড়াই নদীতে ভাঙ্গন, হুমকির মুখে বাড়িঘর কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পদ্মা ক্লিনিক সেন্টার সিলগালা পেয়াজ চাষে ব্যাস্ত ইবি এলাকার কৃষকেরা ভালো দামের আসায় কৃষক কুষ্টিয়ার সনো -২ এ ভুল ইনজেকশনে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভেড়ামারা বিজেএম কলেজের অধ্যক্ষ দৈনিক হাওয়া ২৯ নভেম্বর ২০২০ ইং। আলেম-উলামারা এদেশে ঘর জামাই নয় যে কথা বলতে পারবে না;মুফতি আব্দুল হামিদ  কুষ্টিয়ায় এবার দুইশো বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে গ্যান্ডারী আখ

যেসব দুর্নীতির জন্য বন্ধ হলো পাটকলগুলো

অনলাইন ডেস্ক / ৮৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০, ৮:০৮ পূর্বাহ্ন

বেসরকারি পাটকলের সঙ্গে সরকারি পাটকলগুলো প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়ার পেছনে কেবল আর্থিক দুর্নীতি নয়, আরও নানা ধরনের দুর্নীতিমূলক আচরণ ও পরিস্থিতি উপস্থিত বলে মনে করছেন শ্রমিক, নেতা ও কর্মকর্তাদের কেউ কেউ। তারা বলছেন, আর্থিক দুর্নীতি তো বটেই, অবহেলাও ছিল বিস্তর। অদক্ষ কর্মকর্তারা বাজেট পাস না হওয়ার দোহাই দিয়ে ঠিক সময়ে পাট না কেনা, সঠিক সময়ে কারখানা উন্নত না করা, কথায় কথায় শ্রমিক অসন্তোষে কাজ বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনাগুলো পাট কারখানা বন্ধ হওয়া ত্বরান্বিত করেছে। এসব ঘটনাকে তারা দুর্নীতি হিসেবেই দেখছেন। এদিকে পাটমন্ত্রী বলছেন, নতুন যন্ত্রাংশ যুক্ত করে দ্রুতই আধুনিকায়নের মাধ্যমে পাটকলগুলো চালু করা হবে। পুরনো বলে মিলগুলো তার উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে ফেলাই মিল বন্ধ রাখার কারণ।
কারখানার সংখ্যা কমে গেলো
দেশের পাটকলগুলো তদারকি, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে গঠিত হয় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। বিজেএমসি’র আওতায় ৮২টি পাটকল রাখা হলেও ১৯৭৭-৯৬ সালে ৪৪টি পাটকল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সরকারের হাতে ৩৮টি পাটকলের মধ্যে ১৯৯৩ সালে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ১১টি এবং ২০০২ সালে আদমজী জুটমিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সরকারের হাতে বর্তমানে মাত্র ২৬টি পাটকল রয়েছে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটকলগুলো বন্ধ করার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘এই কারখানাগুলো সব থেকে পুরনো। সেই পঞ্চাশ-ষাটের দশকে তৈরি। এই শিল্পগুলো দিয়ে আসলে লাভ করা সম্ভব নয়। পাটের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। সেই জন্য আমরা চাচ্ছি এটাকে নতুনভাবে তৈরি করতে।’
তিনি বলেন, ‘পাট আমাদের অর্থকরী ফসল। আবার কৃষিপণ্য। আমরা পাটের জন্ম রহস্য আবিষ্কার করেছি। গবেষণা করে বিভিন্ন পাটজাত পণ্য আবিষ্কার করছি। পরিবেশগত কারণে সবাই সিনথেটিক পণ্য থেকে মুক্তি চায়। সেখানে পাট হচ্ছে বিকল্প। ফলে বিশ্বব্যাপী এ খাতে আমাদের বিশাল সম্ভাবনা রয়ে গেছে। কিন্তু এজন্য আমাদের কারখানাগুলোকে সময়োপযোগী করতে হবে। আধুনিক করতে হবে। নতুন করতে হবে। সেজন্য আমরা পাটের শ্রমিকদের মজুরির টাকাসহ সব পাওনা একবারে শোধ করে দেবো। এজন্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি।’ কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হলে বর্তমান শ্রমিকদের মধ্যে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
কার কী পরিমাণ পাট লাগে
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সারাদেশে ৮০ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদন হয়। বন্যার কারণে এবছর পাট উৎপাদন কিছুটা কমার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭৩ লাখ ১৫ হাজার বেল। ওই বছর কাঁচা পাট রফতানি হয়েছে ৮ লাখ ২৫ হাজার বেল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাঁচা পাট রফতানি হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার বেল।
বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন-বিজেএমএ’র চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দেশে পাটের বার্ষিক চাহিদা ৬৪ লাখ থেকে ৬৫ লাখ বেল। এর মধ্যে বেসরকারি পাটকলগুলোর বার্ষিক চাহিদা ৬০ লাখ বেল। এবছর সরকারি পাটকলগুলো বন্ধ থাকার কারণে তারা কোনও পাট কিনবে না, ফলে বাকি পাট বিদেশে রফতানির সুযোগ রয়েছে। যদিও এবছর এর পরিমাণ খুবই কম হবে।’

সময়ে মিলগুলো আধুনিক হলো না
বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন-বিজেএমএ’র চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, মূলত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর—এই তিন মাস হচ্ছে পাটকলগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পাট কেনার আসল সময়। এই তিন মাস প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে পাট কেনেন তারা। আবহাওয়া শুষ্ক থাকার কারণে এসময় ভালো ও উৎকৃষ্ট মানের পাট পাওয়া যায়। কৃষকেরাও এই সময় পাট বিক্রিতে আগ্রহী থাকেন। কারণ, এই সময়টাতে ক্ষেত থেকে পাট কেটে, পানিতে জাগ দিয়ে, মাঠে শুকিয়ে তা মাঠ থেকেই বিক্রি করা যায়। কোনও ধরনের গুদাম রাখা বা বাড়িতে আনতে হয় না। সরকারি কলগুলো এই সময়টা ধরতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন-বিজেএমসি’র একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে।
তারা বলছেন, সরকারি পাটকলগুলোর পাট কেনার জন্য নির্দিষ্ট কোনও সময় ছিল না। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা ছাড় করার ওপর নির্ভর করতো বিজেএমসির পাট ক্রয় কার্যক্রম। বলতে গেলে সারাবছরই তারা পাট কিনতো। এ কারণে ভালো মানের ও প্রয়োজনীয় পরিমাণের পাট পেতো না সরকারি পাটকলগুলো। কারণ, যখন পাটের ভরা মৌসুম, তখন পাট কেনার টাকা পেতো না পাট মন্ত্রণালয়। বেশিরভাগ সময় বাকিতে পাট কিনেছে বিজেএমসি। অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় করলেই তা দিয়ে বকেয়া পরিশোধ করা হতো। দেখা যেতো, আবেদন করা হয়েছে অক্টোবরে, কিন্তু টাকা ছাড় হয়েছে নভেম্বরে। এরপর পাট কেনা হয়েছে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে। তখন হয়তো কৃষকের কাছে পাট মজুত থাকে না। কারণ ভলো মানের পাট বেসরকারি পাটকল মালিকরা অক্টোবরের মধ্যেই কিনে নিয়েছে।
বিজেএমসি’র এই সূত্রটি আরও জানায়, এ অবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিম্নমানের পাট কিনে তা পাটকলগুলোতো সরবরাহ করা হতো। বছরের পর বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চলে আসছিল।

তৃণমূলের চাষিরা দুষছেন ‘পাটের দালালদের’
কেবল সরকারি পাটকলগুলোর এই পরিস্থিতির জন্য পাটের দালালদের দায়ী করছেন তৃণমূল কৃষকরা। জানা গেছে, সরকারি পাটকলগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল সংঘবদ্ধ দালালচক্র। এরা ‘পাটের দালাল’ নামে পরিচিত। মূলত এই দালালরাই হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী। এরা কৃষকের কাছ থেকে সবচেয়ে খারাপ মানের পাট কিনে তা পাটকলে সরবরাহ করতো। এদের সহায়তা করতো বিজেএমসির এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। মূলত এসব কারণেই সরকারি পাটকলগুলোকে বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুনতে হয়েছে।

পুরনো মেশিন একদিনে পুরনো হয়নি
বাজারে প্রতিযোগিতা করে টিকতে না পারার কারণে, পুরনো মেশিনে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন সম্ভব না হওয়া পাটকল বন্ধ করার কারণ বলে মনে করছেন বিজেএমসির চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ। মিলগুলো পুরনো হয়ে যাওয়া, প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারার মতো কারণগুলো যৌক্তিক হলেও শ্রমিক নেতারা বলছেন, এই মিল একদিনে পুরনো হয়নি। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে মিল বন্ধ করে আধুনিকায়নের দরকার পড়তো না।

শ্রমিক কারখানা কর্মকর্তা মুখোমুখি
বিজেএমসির চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মনে করেন পাটকল লোকসানের কারণ কেবল আর্থিক দুর্নীতি নয়, এর জন্য সুবিধাভোগী কিছু শ্রমিকও দায়ী। ইস্যু খুঁজে বের করে নানা সময়ে ধর্মঘটের নামে মিল বন্ধ রাখে শ্রমিকরা। স্থায়ী শ্রমিকরা সিবিএর নামে আন্দোলন করে অথচ কাজ করে না। ফলে সরকারি পাটকলগুলো বেসরকারি পাটকলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারেনি।
যদিও শ্রমিকদের ওপর দায় চাপানো সঠিক নয় বলে মনে করেন ডেমরার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের সাবেক সিবিএ সভাপিত শহিদুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের কারণে লোকসান হয় না। কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, দুর্নীতি আর রাজনীতিকরণের কারণে এসব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কর্মকর্তারা নিম্নমানের পাট বাকিতে কেনে এ গ্রেডের দাম পরিশোধ করে। সরকারের টাকা অপচয় হয়। পাটের ওজন বাড়ানোর জন্য পানি ব্যবহার করে। শুকালে দেড় মণ পাট আধামণ হয় না। অনেকক্ষেত্রে যারা সাপ্লাই দেয় তারা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মী। মান খারাপ বলে কেউ যদি পাট নিতে না চায়, চ্যালেঞ্জ করে সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়।
এসবের মধ্যেই দ্রুতই মিলগুলোতে আধুনিক মেশিন লাগানো হবে উল্লেখ করে  সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি পাটকলগুলো চিরতরে বন্ধ করা হয়নি। পুরনো বলে মিলগুলো তার উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়েছে। এসব মিল চালিয়ে মুনাফা করা সম্ভব নয়। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও সম্ভব নয়। তাই আধুনিক মেশিনপত্র সংযোজন করে তা আবারও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) চালু করা হবে। তখন বর্তমান শ্রমিকরাই কাজ পাবেন।’ সরকার এসব শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক মেশিনপত্রের উপযোগী করে গড়ে তুলবে বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.