বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

কুষ্টিয়ায় ১৮ এলাকায় কাল থেকে ২১ দিনের কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০, ৯:৪১ অপরাহ্ন

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা

কুষ্টিয়া সদর ও ভেড়ামারা উপজেলায় ১৮টি এলাকাকে রেডজোন ঘোষণার পর ওই সকল এলাকা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেলা এগারটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভার সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃণাল কান্তি দে। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া চেম্বারের সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আজাদ রহমান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফসহ রেডজোন চিহিৃত এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যাপী সভা শেষে সভার সভাপতি মৃণাল কান্তি দেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে জেলার ১৮টি এলাকায় কড়া লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। এ ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।’ সভার শুরুতে সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, কোভিড-১৯ সংক্রমণ, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জেলার ১৮টি এলাকা রেডজোন ঘোষণা করা হল। এলাকা ভিত্তিক জনসংখ্যা ও সেখানে রোগী সংখ্যা বিবেচনা করে জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৪ দিনে কোন এলাকায় প্রতি লাখে ১০জন রোগী শনাক্ত হলে সেখানে রেডজোন হিসাবে চিহিৃত করা হয়েছে। জেলায় রেডজোনের এলাকাগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন ও কুষ্টিয়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ড। ওয়ার্ড ভিত্তিক এলাকাগুলো হল- ১নম্বর ওয়ার্ড (থানাপাড়া-কমলাপুর), ২ নম্বর ওয়ার্ড (কুঠিপাড়া), ৫ নম্বর ওয়ার্ড (চৌড়হাস-ফুলতলা), ৬ নম্বর ওয়ার্ড (হাউজিং), ৭ নম্বর ওয়ার্ড (কালিশংকরপুর), ১৬ নম্বর ওয়ার্ড (বাড়াদী-মঙ্গলবাড়ী), ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (মজমপুর-উদিবাড়ী) এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড (কুমারগাড়া-চেঁচুয়া) । ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ও চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন। এছাড়া ভেড়ামারা পৌরসভার ওয়ার্ড ভিত্তিক এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফারাকপুর, নওদাপাড়া, পূর্ব ভেড়ামারা, কুঠি বাজার, দক্ষিণ রেলগেট ও বামনপাড়া। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জেষ্ঠ্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ এস এম মুসা কবির বলেন, জেলায় এ যাবৎ ২৫৩ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৫০ জন। মারা গেছেন একজন। ঈদের পর ৭৫ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন জেলায় ১২-১৩ জন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্যবিভাগের আওতার বাইরে চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবারের লকডাউন হবে প্রকৃত লকডাউন। রেডজোন এলাকায় কঠোর থেকে কঠোরভাবে সরকারী বিধি নিষেধ মানাতে যা যা করা প্রয়োজন তরা সবই করা হবে। কারও সাথে এনিয়ে মুখ কালাকালি হলে কিছু করার নাই। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে সব রকম ব্যবস্থা নিতে হবে। কথায় না বুঝলে প্রয়োজনে লাঠিপেটা করে মানুষকে মানতে বাধ্য করতে হবে। ২১ দিনের কঠোরতা হয়তো বয়ে আসবে ভবিষ্যতে বাঁচার বারতা। এসময় কয়েকজন কাউন্সিলর লকডাউন এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য বা কাচা বাজার প্রসঙ্গে উঠালে সভার শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যেক এলাকার জনপ্রতিনিধিরা কাঁচা বাজার ভ্যানগাড়িতে এলাকায় নেবার ব্যবস্থা করবেন। টাকার বিনিময়ে বিক্রি করবে। এছাড়া গরীব অসহায়দের জন্য সাধ্যমত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, রেডজোন এলাকার মানুষ কোনভাবেই অন্য এলাকায় যেতে বা ওই এলাকায় কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। তবে জরুরি সেবার আওতায় থাকা দপ্তরের লোকজন এর আওতার বাইরে থাকবে। এ ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত ব্যাপক প্রচার করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.