শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

মেহেরপুরের ১২৬৬ বস্তা চাল চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধারের ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রতিক্ষায়

মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি : / ৯৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০, ১১:১১ পূর্বাহ্ন

 হেয়ারিং বন্ডের কাজ কি আমরা চাল ঢেলে দিয়ে করবো ? নাকি ইটভাটা মালিকদের চাল দিয়ে ইট, সিমেন্ট বালু কিনে রাস্তা মেরামত করবো ? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান প্রকল্পের জন্য গঠিত কমিটির পিঅইসিরা সাংবাদিকদের এসব প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তারা আরো বলেছেন, এটা তো সরকারী পরিপত্রেই আছে। আমরা সরকারের উন্নয়ন কাজ করছি সরকারী নিয়ম ও পরিপত্র অনুযায়ী।এটা শুধু গাংনীতেই হয় নাকি সারা বাংলাদেশেই হচ্ছে ? তাহলে এসব নিয়ে এত রাজনীতি আর ষড়যন্ত্র কেনো ?

মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাহাজান আলী, সংরক্ষিত নারী সদস্য লাভলী খাতুন, কাথুলি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ভাবিরন নেছা, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বসির উদ্দীন, বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিয়ারুল ইসলাম ও নারী সদস্য নাজমীন আক্তার তদন্ত কমিটির কাছে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির জবাব শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তারা।

এদিকে গাংনী উপজেলার ১২৬৬ বস্তা চাল চুয়াডাঙ্গার সাতগাড়ি এলাকার চাউল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের গোডাউন থেকে উদ্ধারের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠণ হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটিতে প্রধান হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটি) মনিরা পারভীন এবং মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেস্ট্রট তৌফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত দল এবং বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে এসব পিআইসিদের কাছ থেকে আলাদা আলাদাভাবে স্বাক্ষ্য নেন।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সদস্য ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড)আব্দুল হামিদ বিশ্বাস এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ( ডিসি ফুড) মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেছেন, আমরা পৃথক পৃথকভাবে ওই সকল পিআইসি এবং পিআইসি কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রদান করা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনি কিছু বলা যাবেনা। তদন্ত কমিটির তদন্তের সমালোচনা করে গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ খালেকের বিবৃতির ব্যাপারে তারা বলেছেন এটা একান্তই উনার ব্যাপার। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।

মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্যর অনুকুলে গ্রামীণ অবকাঠোমো উন্নয়ন প্রকল্পের ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে কাবিখা প্রকল্পে ১৬০টি মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দের অনুকুলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

সে মতে মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকনের ডিও লেটার ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষ প্রথম কিস্তির ৫২.৫৫ মেট্রিক টন চাল ছাড় দেয় গাংনী উপজেলা খাদ্য অফিস।

ইতোমধ্যে কাথুলি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ভাবিরন নেছা ৩ মেট্রিক টন, মটমুড়া ইউনিয়নের সাজাহান আলী ৬ মেট্রিক টন, লাভলী খাতুন ৩.৫৫ মেট্রিক টন, বামন্দী ইউনিয়নের জিয়ারুল ইসলাম ৯ মেট্রিকটন, নাজমীন খাতুন ৬ মেট্রিক টন, চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ৩ মেট্রিক টন, ধানখোলা ইউনিয়নের বসির উদ্দীন ৬ মেট্রিক টনসহ মোট ৩৭ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন।

এসব পিআইসির আওতায় গৃহীত প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, তাদের হেয়ারিং বন্ড রাস্তার কাজ চলছে। বিক্রিত এসব চালের টাকা দিয়ে ইট, বালিসহ নানা ধরনের উপকরণ কিনে তারা সফলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন। কাজের মানও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন তদারকির দায়ীত্বে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও অফিস)।

মটমুড়া ইউনিয়নের মটমুড়া গ্রামের প্রভাষক টোকনের বাড়ির কাছ থেকে হেরিংবন্ড রাস্তা পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটির এইচবিবি করণ প্রকল্পে বরাদ্দ পেয়েছেন ২০ মেট্রিক টন চাউল। এই প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি ৯নং ওয়ার্ড মেম্বর শাহজাহান আলী।কাজটি চলমান রয়েছে। প্রথম কিস্তিতে ছয় মেট্রিক টন চাউল উত্তোলন করেছে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শাহজাহান বলেছেন, পিআইও অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এইচবিবি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ইট, বালু ও শ্রমিক খরচ দেওয়ার জন্য প্রথম কিস্তির ছয় মেট্রিক টন চাউল সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী বিক্রি করা হয়েছে।

মটমুড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য লাভলি খাতুন বলেন, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মহাম্মদপুর মরহুম আলম চাঁন্দের বাড়ি হইতে ইসমাইলের বাড়ির অভিমুখের কাঁচা রাস্তাটি এইচবিবি করণের প্রকল্প দেন।

আমি প্রথম কিস্তির ৩.৫৫ মেট্রিক টন চাউল উত্তোল করে বিক্রি করে ইট ও বালুর কেনার জন্য ব্যয় করা হয়েছে। বাকী কাজ চলমান রয়েছে।

গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জণ চক্রবর্তী বলেন,  নিয়মানুযায়ী এমপি মহোদয় প্রকল্প ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। সে অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজ বাস্তবায়ন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.