শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যা বিক্ষোভ অব্যাহত ওয়াশিংটন থেকে সেনা প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক / ১৩৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০, ২:৫৪ পূর্বাহ্ন

আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৪ দিনের মতো রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে প্রথম দিকের সহিংস বিক্ষোভ বর্তমানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুলিশ বিভাগের কল্যাণ তহবিল বন্ধ করাসহ পুলিশ বিভাগ ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন মোকাবেলার ট্রাম্পের নীতির কঠোর সমালোচনা করে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তিনি ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী জো বাইডেনকে সমর্থন দেবেন। খবর নিউইয়র্ক টাইম, সিএনএন ও বিবিসির।

বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। রোববার টুইটারে তিনি লেখেন, ‘ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। সবকিছু এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেনারা ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে। প্রয়োজনে তারা দ্রুত ফিরে আসবে।’ এদিকে জনপ্রিয়তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধস নেমেছে। রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পকে ছাড়িয়ে গেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও এনবিসি নিউজের জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পকে ছাড়িয়ে গেছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন। জরিপ অনুযায়ী- ৪২ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে এবং ৪৯ শতাংশ মানুষ জো বাইডেনকে সমর্থন করেছেন।

ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন না কলিন পাওয়েল : যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ কলিন পাওয়েল। ট্রাম্পের নিজ দলের এ প্রভাবশালী নেতা একাধারে সাবেক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পকে নয়; বরং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী জো বাইডেনকে তিনি সমর্থন দেবেন। সোমবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি সংবিধান আছে এবং সেটি অনুসরণ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ক্রমশ তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।’ কলিন পাওয়েল বলেন, ট্রাম্প যেভাবে কথা বলছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আমি কোনোভাবেই তাকে সমর্থন করতে পারি না। এর জবাবে কলিন পাওয়েলকে ‘অত্যন্ত অতিমূল্যায়িত’ বলে খোঁচা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। টুইটারে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাওয়েলকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘কলিন পাওয়েল কি এটি বলেননি যে, ইরাকের কাছে বিধ্বংসী অস্ত্র আছে? অথচ তাদের সেটা ছিল না। কিন্তু আমরা যুদ্ধে জড়িয়েছি।’

পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার : যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের ক্ষমতার লাগাম টানতে সংস্কার আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। ফ্লয়েড হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বিভাগ ভেঙে দেয়া, তাদের ক্ষমতা হ্রাস করা, তহবিল বরাদ্দ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি উঠেছে। এরই মধ্যে মিনেপোলিসের পুলিশ বিভাগ ভেঙে দেয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে সিটি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। নিউইয়র্ক পুলিশের তহবিল কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় মেয়র বিল দে ব্লাসিও। পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার আনার জন্য চাপ বাড়ছে কংগ্রেসের ওপরও। পুলিশের অতিরিক্ত ক্ষমতা খর্ব করাসহ বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটরা।

স্থানীয় পুলিশ বিভাগকে ভেঙে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে মিনেপোলিস সিটি কাউন্সিল। কাউন্সিলের ১৩ জন কাউন্সিলের মধ্যে ৯ জন নতুন মডেলের জননিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টির পক্ষে মত দিয়েছেন। রোববার এক কমিউনিটি বৈঠকে কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট লিসা বেন্ডার পুলিশ বিভাগের সঙ্গে শহরের সম্পর্ক ‘বিষাক্ত’ বলে উল্লেখ করেন। সবাইকে নিরাপদ রাখবে এমন একটি জননিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের শপথ নেন তিনি। লিসা বলেন, ‘আমাদের সংস্কার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কমিউনিটির প্রতিটি সদস্যকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং মিনেপোলিস পুলিশ সেই কাজটি যে করছে না তা প্রকাশে আমরা বদ্ধপরিকর।’ তবে পুলিশ বিভাগকে ভেঙে দেয়ার পক্ষপাতী নন মিনেপোলিস মেয়র জ্যাকভ ফ্রে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরের পক্ষ থেকে আরও বেশি করে কমিউনিটির নেতৃত্বাধীন জননিরাপত্তা কৌশল কার্যকর করতে আমরা প্রস্তুত। তবে মিনেপোলিস পুলিশ বিভাগকে বিলুপ্ত করে দেয়ার প্রস্তাব আমি সমর্থন করি না।’

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল দে ব্লাসিও রোববার পুলিশ বিভাগের তহবিল কাটছাঁট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতিরিক্ত এ সঞ্চয় সমাজসেবায় ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক শহরের পক্ষ থেকে করা একটি টুইট শেয়ার করেছেন মেয়র ব্লাসিও। সেখানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তহবিল যুব উন্নয়ন ও সমাজসেবা খাতে সরিয়ে নেয়াসহ পুলিশ বিভাগে বিভিন্ন সংস্কারের রূপরেখা উল্লেখ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর