শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

করোনা আতংকের মধ্যেই কুমারখালী চরসাদীপুর ইউনিয়নে চলছে রক্তাক্ত সংর্ঘষ।

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা / ২২১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ৫:০১ অপরাহ্ন



সারা দেশে চলছে করোনা ভাইরাস আতংক এর মধ্যেই কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদীপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর গ্রামে রক্তাক্ত করা হয়েছে নিরীহ মানুষের।এ বিষয়ে ২৬ জনকে আসামি করে এবং ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কুমারখালী থানায় মো. ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদীপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর গ্রামের মো. ইদ্রিস আলীর বাড়িতে পূর্ব শত্রুতার জেড় ধরে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মৃত সাদ আলীর তিন পুত্র মো. হান্নান প্রামাণিক (৪৫), মো. জিন্নাহ প্রামণিক (৩৮), মো. আমিরুল প্রামাণিক (৬০), মৃত সাদেক আলীর পুত্র মো. বানাত আলী প্রামাণিকসহ তার চার পুত্র মো. জামাত ইসলাম (৪০), মো. জহিরুল ইসলাম (৩৮), মো. মনিরুল ইসলাম (৩৫), মো. ইকরাম হোসেন (৩০), মৃত জুব্বার প্রামাণিকের দুই পুত্র মো. সাহেব আলী (৫৫), মো. আফজাল প্রামাণিক (৫৮), হান্নান প্রামাণিকের পুত্র মো. সাদেক আলী (২৫), মো. শফিক হোসের পুত্র মো. রাকিবুল ইসলাম (২২), মো. রাসেল হোসেন (২৫), মো. অনথি প্রামাণিকের চার পুত্র মো. মিলন হোসেন (৩০), মো. বাদশা হোসেন (৩২), মো. আশরাফ হোসেন (৩৫), মো. কুদ্দুস হোসেন (৩২), মো. জিন্নাহ হোসেনের দুই পুত্র মো. সেলিম হোসেন (২৩), মো. সোহেল হোসেন (২১), নবাব প্রামাণিকের পুত্র আব্দুস সাত্তার (৩৮), মৃত দুল্লার পুত্র মো. লিটন হোসেন (২৫), মো. আশরাফ হোসেনে পুত্র নবি হোসেন (২২), মো. সাহেব আলীর পুত্র মো্. নবাব হোসেন (২৬), আব্দুল কুদ্দুসের দুই পুত্র মো. শুকুর আলী (২৭), মো. মুকুল হোসেন (২৩)সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন অবৈধভাবে প্রবেশ করে এবং অশ্লিন ভাষায় গালিগালাজ করতে আরম্ভ করলে মো. ইদ্রিস আলীর পিতা আব্দুর রাজ্জাক(৫৫) গালাগালি করতে নিষেধ করলে তাকে বিভিন্ন বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে আঘাত করে মারাত্বকভাবে আহত করে। এসময় আহত আব্দুর রাজ্জাক(৫৫)’র ছোট ভাই মো. নূর আলী (৪০) তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে। এছাড়াও ঘর বাড়িসহ ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ৫০,০০০/= (পঞ্চাম হাজার) টাকার মালামালের ক্ষতি করে।
এ বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসে ঠিক করার কথা থাকলেও উল্লেখিত আসামিগণ এসবের কর্ণপাত না করে তারা আবার গত শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে দেশীয় অত্র নিয়ে মো. ইদ্রিস আলীর নিজ সেচ পাম্পের পানি সরবারহের ক্যানালের মাটি কেটে পানি সরবারহ বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি থারাপ হওয়ার আশংকায় সেচ পাম্প এলাকা থেকে মো. ইদ্রিস আলী চলে আসেন। পররর্তী সময়ে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সেচ পাম্প থেকে পানি সরবারহের অনুমতি দেওয়া হয়।
একই দিন শনিবার (২৮ মার্চ) বিকালে মো. ইদ্রিস আলীর সেচ পাম্পে থেকে ফসলী জমিতে পানি সরবাররে সময় উল্লেথিত আসামিরা দেশীয় অস্ত্র হাতে তার মো. ইদ্রিস আলীর পিতা আব্দুর রাজ্জাক(৫৫) অশ্লিলভাষায় গালাগালি দিতে দিতে ঘিরে ধরে এবং পানি সরবারহ করতে বাঁধাপ্রদান করে। এসময় আসমি বানাত আলী অন্য আসামিদের আদেশ দেন আব্দুর রাজ্জাক (৫৫)’কে মেরে শেষ করে ফেলার। এই আদেশ পাবার পর আসামি সাহেব আলী তার হাতে থাকা ছুড়ি দিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের ঘারে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এতে আব্দুর রাজ্জাক মাটিতে পড়ে গেলে আসামি মনিরুল, হান্নান, সাহেব আলী, রকিবুল ইসলামের হাতে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বকভাবে আহত করে। এসময় আসামি রাসেল হোসেনের হাতে থাকা রড দিয়ে পায়ে আঘাত করে এতে আব্দুর রাজ্জাকের পায়ের হাড় ভেঙে যায় আরেক আসামি মো. জহিরুল ইসলাম তার গলা চেপে ধরে শ্বাষরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় আব্দুর রাজ্জাক(৫৫)’র ছোট ভাই নূর আলী (৪০)’র ওপর হামলা করে আসামি জিন্নাহ হাসুযা দিয়ে নূর আলীর পিঠের ওপর কোপ দেয় এর পর আসামি আমিরুরের হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ডান পয়ের উড়ুতে কোপ দেয়, আসামি জামাত ইসলাম তার হাতে থাকা ছুড়ি দিয়ে পিঠে আঘাত করে এতে নূর আলী রক্তাক্ত জখম হোন। এর পর আরেক আসামি ইকরাম হোসন ছুড়ি দিয়ে আবার ও তাকে আঘাত করে রক্তাক্ত জথম করেন।এসময় অন্যান্য আসামিরা লাঠি সোটা দিয়ে বেধরক পিটিয়ে নূর আলীকে মারাত্বকভাবে আহত করেন এছাড়ার আরেক আসামি সিপন আলীর হাতে থাকা সাবল দিয়ে নূর আলীর ডান পায়ে আঘাত করে পায়ের হাড় ভেঙে দেন। এছাড়াও আসামিরা সেচ পাম্পের ঘরে ভাংচুর চালায় এসময় পানি সরবারহের জন্য রাখা প্লাস্টিকের ফিতা পাইপ কেটে ফেলে এতে ৪০,০০০/=(চল্লিশ হাজার) টাকার ক্ষতি হয়। পরে আসামিরা নূর আলীকে মৃত ভেবে মাঠে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে ইদ্রিস আলী এ খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে সাথে করে গুরুতর আহত বাবা এবং চাচাকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। ইদ্রিস আলীর পিতার এবং চাচাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই ঘটনা কেন্দ্র করে চরসাদীপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।স্থানীয় সাধারণ মানুষ আশংকা করছেন অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় আবার ও বড় আকারের সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।সে কারনে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অভিযুক্ত আসামিদের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর