শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার ইবি থানার রাস্তার বেহাল দশায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ কুমারখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় শ্রমিক নেতা নিহত কুমারখালী বাশগ্রাম বাজারে মহানবী (সাঃ) কে কটুক্তি করায় ছন্দ ষ্টুডিও ঘেরাও করেছে তৌহিদী জনতা ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার প্রতিবাদে ভিপি নূরের নেতৃত্বে রাজধানীতে মশাল মিছিল কুষ্টিয়ায় ঘাতক ট্রাক্টর কেরে নিল কোরআনে হাফেজ ফারুকের জীবন কুষ্টিয়ার সু-স্বাদু তিলের খাজা, দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ১৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ দৈনিক হাওয়া ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ইং। কুষ্টিয়ায় সফল অভিযানে ডিবি পেল পুরস্কার দৌলতপুরে ৪ ইটভাটা মালিককে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

মৃত্যুর আগে বাইরে থেকে দরজার ছিটকানি লাগিয়ে দেন স্ত্রী-সন্তান, পানি চেয়েও পাননি

অনলাইন ডেস্ক: / ৮২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ৯:১৩ পূর্বাহ্ন

ফেনীর সোনাগাজীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বদ্ধ ঘরে মৃত্যু হওয়া সাহাব উদ্দিনের (৫৫) মৃত্যুর পূর্বে বীভৎস চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। মৃত্যুর আগে পরিবারের লোকজন তাঁকে ঘরে একা রেখে বাইরে থেকে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে রাখে। দেওয়া হয়নি দুপুরে খাবার। মৃত্যুর সময় পানি চেয়েও পায়নি। মৃত্যুর পরও কাছে আসেননি স্ত্রী, ছেলে–মেয়ে ও জামাতাসহ কোন স্বজন। মৃত্যুর পর পায়নি স্থানীয় মসজিদের খাটিয়া, কেউ দেয়নি কবর খোঁড়ার কোদালও।

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রবিউজ্জামান মৃত সাহাব উদ্দিনের ছোট ছেলের বরাত দিয়ে জানান, রোববার হাসপাতালে গিয়ে কোভিড–১৯ আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে আসেন। দুপুরে বাড়িতে আসলে পরিবারের লোকজন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। এসময় তাঁকে শয়নকক্ষে রেখে বাইরে থেকে দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে রাখেন পরিবারের সদস্যরা।এর পর থেকে পরিবারের কেউ সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেননি। দুপুরে তাঁকে খাবারও দেননি। বিকেলে তাঁর শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার করে খাবার চাইলেও কেউ দেননি। ছোট ছেলে এগিয়ে যেতে চাইলে তাঁকে বোনেরা বাধা দেন। এভাবে চিৎকার করতে করতে রাত ১০টার দিকে সাহাব উদ্দিনের মৃত্যু হয়। রাতে সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন তিনি মারা গেছেন। এরপর সবাই যাঁর যাঁর ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে ঢুকে যান। পরে ছোট ছেলে ‘বাবা মারা গেছে’ বলে চিৎকার শুরু করেন।

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফেরদৌস রাসেল বলেন, ‘সাহাব উদ্দিনের বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শোনার বিষয়টি একজন প্রতিবেশী চেয়ারম্যানকে জানান। পরে রাত একটার দিকে গ্রামপুলিশ নিয়ে চেয়ারম্যান সহ আমরা কয়েকজন ওই বাসায় গিয়ে উপস্থিত হই। অনেক ডাকাডাকির পর ওই বাড়ির লোকজন মূল দরজা খুলে দিয়ে যাঁর যাঁর কক্ষে চলে যান। বাড়ির একটি কক্ষে সাহাব উদ্দিনকে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। ছিটকিনি খুলে আমরা ভেতরে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পাই। সম্ভবত সাহাব উদ্দিনের শ্বাসকষ্ট উঠেছিল এবং তিনি তা সহ্য করতে না পেরে মাটিতে গড়াগড়ি করেছিলেন। তাঁর পরনের কাপড় খোলা অবস্থায় পাশে পড়েছিল।’

ইসলামী আন্দোলনের করোনা রোগে দাফন টিমের এক সদস্য জানান, দাফন জন্য মধ্যরাতে ইসলামী আন্দোলনের করোনা রোগে দাফন টিমকে খবর দেন চেয়ারম্যান। দাফন টিমের সদস্যদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পিপিই (পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট) ও থানা থেকে মরদেহ রাখার জন্য একটি ব্যাগ সংগ্রহ করে দেন। লাশ দাফন করার জন্য স্থানীয় মসজিদ থেকে খাটিয়া আনতে লোক পাঠালে মসজিদ কমিটির লোকজন খাটিয়া দিতে অস্বীকৃতি জানান ও কবর দিতে বাধা দেন। কবর খোঁড়ার কোদালও দিচ্ছেন না কেউ। মরদেহ গোসল করানোর জন্য সমাজের পর্দাও না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সমাজপতিরা। পরে চেয়রাম্যান নিজের টাকায় কাপনের কাপড় কিনে, সমাজপতি, গ্রামের লোকদের অনেকটা বুঝিয়ে খাট ও পর্দার কাপড়, কোদাল সংগ্রহ করেন। গ্রাম পুলিশ ও ইসলামী আন্দোলনের লোকদের সাথে নিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরাস্থানে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করেন চেয়ারম্যান। কবর খোঁড়া, জানাজা ও দাফন কাজে অংশ নেন চেয়ারম্যান সহ ৭জন ব্যক্তি। দাফন করে চলে আসার সময় ছোট ছেলেটি তার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান জানান, মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া এলাকার বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে একটি পেট্রলপাম্পে চাকরি করতেন। কিছুদিন আগে সাহাব উদ্দিনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। একই সঙ্গে জ্বর ও কাশি ছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে যান। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসেন। গত শনিবার রাত থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও কাশি বেড়ে যায়। এর পরদিন রোববার সকালে তিনি হাসপাতালে গিয়ে কোভিড–১৯ আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে আসেন। সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন মেয়ে ও তিন জামাতা রয়েছেন। দুই ছেলে কাজের সূত্রে গ্রামের বাইরে থাকেন। মৃত্যুর সময় বাকিরা সবাই বাড়িতে ছিলেন।

এদিকে এ ব্যাপারে সাহাব উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কেউ কথা বলতে চাননি।

চেয়ারম্যান আরো জানান, সাহাব উদ্দিন পেট্রোল পাম্পে কর্মরত থেকে চার ভাইকে প্রবাসে পাঠিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনটি মেয়ে বিয়ে দিয়ে জামাইদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজেও বহু অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। টাকা পয়সা রোজগার করে সারা জীবনের উপার্জন দিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। অথচ মহান আল্লাহ তার এমন একটি মৃত্যু দিয়েছেন শেষ বিদায়ে কোন স্বজন তার পাশে নেই। এর চেয়ে হৃদয় বিদারক আর কি হতে পারে? মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি কোন শত্রুকেও যেন তিনি এমন মৃত্যু না দেন। এই মৃত্যু থেকে পৃথিবীর সব মানুষ শিক্ষা নেয়া উচিৎ। আসলে কার জন্য এই উপার্জন আর অর্থবিত্ত রেখে যাওয়া? করোনার এই মহামারিতে মানবতাও যেন আজ থমকে গেছে!

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উৎপল দাস বলেন, রোববার সকালে সাহাব উদ্দিন নিজেই হাসপাতালে এসে নমুনা দিয়ে যান। তিনি জানান, সোনাগাজী উপজেলায় এ পর্যন্ত দুই চিকিৎসকসহ ২১ জন কোভিড–১৯–এ আক্রান্ত হয়েছেন। মতিগঞ্জ ইউনিয়ন করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.