রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

ভারতকে মোকাবেলায় ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান

অনলাইন প্রতিবেদক / ৮৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২০, ৬:২৪ অপরাহ্ন

বিশ্বের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রে বলিয়ান নয়টি দেশের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাকিস্তান। শক্তিশালী প্রতিবেশী ভারতের বৈরি সম্পর্কের কারণে পাকিস্তান নিজেদের বিশেষ প্রয়োজন অনুসারে ও শত্রুদের যুদ্ধক্ষেত্রে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের কাছে ১৫০টি থেকে ১৮০টির মতো পারমাণবিক বোমা রয়েছে। এটা ঠিক স্পষ্ট নয় যে, কবে থেকে পাকিস্তান মোতায়েনযোগ্য অস্ত্র তৈরি করেছে, তবে নব্বই দশকের মাঝামাঝি তাদের এ ধরণের অস্ত্র প্রস্তুত হয়ে যায়। ১৯৯৮ সালের ২৮ মে, ভারতের ধারাবাহিক পারমাণবিক পরীক্ষার জবাবে পাকিস্তান একই দিনে পাঁচটি বোমার পরীক্ষা চালায় এবং দুই দিন পরে আরও একটির পরীক্ষা চালায়। ২৮ মে পরীক্ষা চালানো বোমাগুলোর মধ্যে চারটিই ছিল ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র, যেটা ২-৩ কিলোটন রেঞ্জের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়। ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা সীমিত এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য এটা তৈরি করা হয়েছে। শক্তিশালী কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের বিপরীতে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক টার্গেটকে ধ্বংস করা। সেনা সংগঠন, সদরদপ্তরের ইউনিট, সরবরাহ ডাম্প, এবং উচ্চমাত্রার টার্গেটগুলোতে ব্যবহারের জন্য এই অস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রগুলো পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের জিডিপির আকার মাত্র ৩০৫ বিলিয়ন ডলার, যেটা যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের সমান। পাকিস্তানের সক্রিয় সেনা সদস্য রয়েছে ৭ লাখ ৬৭ হাজার। যদিও বেশির ভাগ সেনাই পদাতিক, তবে এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ হলো ট্যাঙ্ক, ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকেল, স্বচালিত কামান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, এবং ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী মিসাইল দিয়ে সমৃদ্ধ। ভারতের জিডিপি ২ হাজার ৫৯৭ বিলিয়ন ডলার, আর সক্রিয়া সেনা রয়েছে তাদের ১২ লাখ। প্রত্যেক ক্যাটেগরির সরঞ্জামও তাদের রয়েছে বেশি পরিমানে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সব বিবেচনাতেই পাকিস্তানের চেয়ে বড়। একটা সর্বব্যাপী স্থলযুদ্ধ শুরু হলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেখানে টিকে থাকার সম্ভাবনা সব দিক থেকেই বেশি। ভারতের এই কনভেনশনাল শক্তির মোকাবেলার জন্য পাকিস্তান বিশেষভাবে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রটি তৈরি করেছে। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আক্রমণ যদি ব্যার্থও হয়, এবং এরপর ভারত পাল্টা হামলা করে, তাহলে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রেই শেষ করে দিতে পারবে পাকিস্তান। পাকিস্তানের কতগুলো ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে জানার উপায় নেই, তবে ডেলিভারি সিস্টেম গণনা করে আমরা এর সংখ্যা সম্পর্কে একটা ধারণা করতে পারি। অ্যাটমিক সাইন্টিন্সসের এক বুলেটিনে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের ২০-৩০টি ট্রান্সপোর্টার-ইরেকটর-লঞ্চার (টিইএল) যানবাহন রয়েছে, যেগুলোর ডিজাইন করা হয়েছে এনএএসআর/এইচএটিএফ-৯ স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপের জন্য। টিইএল চার এক্সেলের যানবাহন, যেটা দুটো বা তার বেশি এনএএসআর মিসাইল বহন করতে পারে। এক একটি যানবাহন দুটো করে মিসাইল বহন করলে, পাকিস্তানের ৬০টির মতো ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা যায়। সূত্র: এসএএম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.