শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কৌশলে ঘরমুখি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক / ১৪৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০, ৬:২১ পূর্বাহ্ন

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঈদে কর্মস্থল ছেড়ে নিজ এলাকায় ছুটছে মানুষ। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট আর বিভিন্ন ধরণের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৌশলে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছে। ভেঙে ভেঙে বা অনেক সময় কয়েকজন মিলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে। অনেকে ট্রাক বা এম্বুলেন্সে করেও বাড়ি ফিরছে। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রায় তেমন ভীড় নেই। প্রথমবার সাধারণ ছুটির সময়ে যারা বাড়ি চলে গেছেন তাদের অনেকেই ঢাকায় ফিরতে পারেননি। এবারে গ্রামমুখি মানুষের সিংহভাগই তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে।
জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে মানুষের বাড়ি ফেরা ঠেকাতে রোববার থেকে ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে চেকপোস্ট ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

যাতে কোন ব্যক্তি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঢাকা শহরে প্রবেশ বা ঢাকা শহর থেকে বাইরে যেতে না পারেন। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, জরুরি সেবা ও পণ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহনসমূহ এই নিয়ন্ত্রণের আওতামুক্ত থাকবে। এমতাবস্থায় যথোপযুক্ত কারণ ব্যতীত কোন ব্যক্তি যানবাহন চালনা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। শুধু রাজধানী থেকেই নয়, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের ওপর সরকারি বিধিনিষেধও উপেক্ষা করা হচ্ছে। বাস-ট্রেন না চললেও, বিভিন্নভাবে যানবাহন জোগাড় করে অনেক মানুষই ঢাকা থেকে অন্য জেলায় যাচ্ছেন।
পুলিশ বলছে, তারা এরই মধ্যে অনেক গাড়ি আটক করছে এবং অনেক মানুষকে ফেরত পাঠাচ্ছে, কিন্তু তবুও প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিলো ছুটির মধ্যে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় চলাচলের বিষয়টিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। প্রতি বছরের মত ঈদের আগে মানুষের বাড়ির দিকে ছুটে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ঈদকে সামনে রেখে মানুষের ঘরমুখি যাত্রা থেমে নেই। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার জন্য কোনো ধরণের গণপরিবহণ না থাকলেও কোনো না কোনো উপায়ে ঠিকই পরিবারের কাছে ফিরছে মানুষ। কেউ কেউ কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি ভাড়া করছেন, কেউ আবার স্থানীয় নানা পরিবহণ ব্যবস্থার সাহায্য ফিরছেন পরিবারের কাছে। প্রতিবছর ঈদের মৌসুমে যে পরিমাণ মানুষ বাড়ির দিকে যাত্রা করে, এবার সে তুলনায় মানুষের সংখ্যা অনেক কম হলেও সেই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।

বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের মাওনা থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, প্রতিদিন তারা বহু গাড়ি আটক করছে এবং ফেরত পাঠাচ্ছে, কিন্তু তবুও মানুষকে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আজও আমার একটি বাস আটক করেছি, যেটিতে স্টাফ বাস লিখে যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ঈদের আগে বাড়ির দিকে যাওয়া এই মানুষগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটি মাথায় রেখে সব এলাকার স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রশাসনের কাছে নির্দেশনা দেয়া আছে, যে কেউ এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় গেলে তারা যেন হোম কোয়ারেন্টিন করে, তা যেন নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ করে ঢাকা বা হটস্পটগুলো থেকে মানুষ অন্য এলাকায় গেলে পুলিশ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। প্রত্যেকটা জেলাতে এই তদারকি চলছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথগুলোর চেকপোস্ট ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর