সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

করোনার প্রভাব: দিনে পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ৬ হাজার শিশুর মৃত্যুর শঙ্কা

Reporter Name / ৭৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০, ৬:১৭ পূর্বাহ্ন

জরুরি পদক্ষেপ না নিলে কোভিড-১৯ রোগের প্রভাবে আগে থেকে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ছয় হাজার শিশু মারা যেতে পারে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গেল বছরের মার্চের তুলনায় ২০২০ সালের মার্চে সেবা গ্রহণ ২৫ শতাংশ কমেছে।

বুধবার বাংলাদেশে জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, মহামারীতে স্বাস্থ্য সেবা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে প্রতিরোধযোগ্য ও আরোগ্য লাভ করা সম্ভব এমন অবস্থা থেকে হাজার হাজার শিশু মারা যেতে পারে।

তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সেবা সহজলভ্য, নিরাপদ এবং সেবা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ইউনিসেফ।

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিও প্রায় ১৯ শতাংশের মতো কমেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০১৯ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের জানুয়ারি-মার্চে মায়েদের গর্ভকালীন সেবার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়া এবং সন্তান জন্মের পর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে চেকআপের মতো জরুরি মাতৃ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ ব্যাপক মাত্রায় কমেছে, এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে সন্তান জন্ম দান ২০১৯ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২০ এর জানুয়ারি-মার্চে ২১.২ শতাংশ কমেছে।

মহামারীর কারণে বাংলাদেশে হাম ও রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়েছে, যেখানে ৯ মাস থেকে ৯ বছর বয়সী তিন কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল।

শিশুদের নিয়মিত টিকাদান চালু থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেয়া হচ্ছে না এবং লকডাউনের কারণে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে টিকা পরিবহনও চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন এক গবেষণায় আভাস দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ আরও কমে গেলে আগামী ছয় মাসে মহামারীর পরোক্ষ প্রভাবে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ২৮০০০ শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম হওয়া, যা অপুষ্টির একটি ধরন, পাঁচ বছরের কম বয়সী এসব শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার ভিত্তিতে শিশু মৃত্যুর আনুমানিক এই পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে।

মহামারী সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় উপনীত হলে ১১৮টি নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হয়ে ও শিশু অপুষ্টি বেড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ১২ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটতে পারে বলে সেখানে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

জীবন রক্ষাকারী সেবা হ্রাসের প্রভাবে শিশু এবং মাতৃমৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে কী হতে পারে সেরকম তিনটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে প্রতিবেদনটি।

এটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যেখানে সেবা গ্রহণ ১৫ শতাংশ হ্রাস পাবে, সেখানে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মারা যাওয়া ৯.৮ শতাংশ বাড়বে বা একদিনে আনুমানিক ১,৪০০ জনের মৃত্যু হতে পারে এবং মাতৃমৃত্যু ৮.৩ শতাংশ বাড়তে পারে।

সতর্ক করা হয়েছে যে, সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ ৪৫ শতাংশ কমে গেলে প্রতি মাসে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু ৪৪.৭ শতাংশ এবং মাতৃ মৃত্যু ৩৮.৬ শতাংশ বাড়বে।

এসব স্বাস্থ্য সেবার মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভকালীন সেবা, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর, সন্তান জন্মদান, টিকা প্রদান এবং প্রতিষেধক ও আরোগ্য সহায়ক সেবা অন্তর্ভুক্ত।

মহামারী নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ অথবা চাপের মুখে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এড়াতে না পারা মর্মান্তিক ঘটনা – যে কোনো কারণেই স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ বিঘ্নিত হলে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার বৃদ্ধি হবে ভয়ানক।

এই ১১৮টি দেশে প্রতি ছয় মাসে পাঁচ বছরের কম বয়সী যে ২৫ লাখ শিশুর মৃত্যু হয় তার বাইরে এসব সম্ভাব্য শিশু মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে এই গবেষণায়, যা প্রায় এক দশকে শিশু মৃত্যু রোধে অর্জিত অগ্রগতি পেছনে টেনে নেয়ার হুমকি তৈরি করেছে।

এসব দেশে একই সময়ে যে ১৪৪,০০০ মাতৃ মৃত্যু ঘটে, তার সঙ্গে আরও ৫৬,৭০০ মায়ের মৃত্যু যোগ হতে পারে বলেও আশঙ্কাকরা হয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, যখন থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি; তারপর এবারই প্রথম পঞ্চম জন্মবার্ষিকীর আগে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মা ও শিশুদের এই ক্ষতির মুখে আমরা ফেলে দিতে পারি না এবং প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যু কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা কয়েক দশকের অগ্রগতিকে হারাতে পারি না।

এই বিপুল সংখ্যায় অতিরিক্ত শিশু মৃত্যুর পেছনে শিশুদের অপুষ্টি বৃদ্ধি ভূমিকা রাখবে, যেখানে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং নবজাতকের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ার চিকিৎসা কম হওয়ার প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মহামারীর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ কমে যাওয়ার ফলে যে ১০টি দেশে সর্বাধিক সংখ্যক অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।

সেগুলো হল: বাংলাদেশ, ব্রাজিল, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, উগান্ডা ও তাঞ্জানিয়া।

আর যে ১০টি দেশে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু হার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো হল: জিবুতি, এস্তোনিয়া, লেসোথো, লাইবেরিয়া, মালি, মালাবি, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সিয়েরা লিওন ও সোমালিয়া। এই দেশগুলোতে জীবনরক্ষাকারী সেবাসমূহ অব্যাহত রাখাটা জরুরি।সূত্র যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.