সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

রোজার মাঝামাঝিতে বাড়তে শুরু করেছে মসলার দাম

অনলাইন প্রতিবেদক / ১১৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

প্রতি বছরই ঈদের আগে আগে দেশে মসলার চাহিদা বেড়ে যায়। বাড়তি চাহিদায় চাঙ্গা হয়ে ওঠে বাজার। তবে এবার বাজার পরিস্থিতি কিছুটা আগেই বদলাতে শুরু করেছে। ঈদের প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি। পাইকারি বাজারে এখন থেকেই দাম বাড়ছে মসলাপণ্যের। মসলাভেদে দাম ৪০-১৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে মসলার দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে করোনা পরিস্থিতিতে আমদানি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। তবে অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, লোকাল ট্রেড বা স্থানীয়ভাবে হাতবদলের কারণে মসলার দাম বাড়তে শুরু করেছে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মসলার আড়ত ও পাইকারি দোকানগুলো ঘুরে গতকাল ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি জিরা ৪০০-৪২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। গত সপ্তাহের শেষ দিকেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসেবে এক সপ্তাহের কম সময়ে আমদানি করা জিরার দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা বেড়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে প্রতি কেজি এলাচ ২ হাজার ৯২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গতকাল মসলাপণ্যটি কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। দাম বেড়েছে কেজিতে ১৩০ টাকা।

বাড়তির দিকে রয়েছে কালিজিরার দামও। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কালিজিরা বিক্রি হয়েছিল ১৭০ টাকা। গতকাল ১০০ টাকা বেড়ে পণ্যটির দাম দাঁড়িয়েছে কেজিপ্রতি ২৭০ টাকায়। গতকাল পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি হয় ৭১০ টাকায়। গত সপ্তাহে পণ্যটির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬৭০ টাকা। সেই হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে লবঙ্গের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে।

অনেকটা একই চিত্র দেখা গেছে গোলমরিচের দামেও। এক সপ্তাহ আগেও পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি গোলমরিচ ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে মসলাপণ্যটির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩৭০ টাকায় উঠেছে। ভারত থেকে আমদানি করা শুকনা মরিচ ও হলুদের দামও বাড়তির দিকে রয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি আমদানি করা শুকনা মরিচ বিক্রি হয় ৩৪০ টাকায়। আগের সপ্তাহেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ৩১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

আমদানি করা হলুদের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা। রোজা শুরুর আগে পাইকারি বাজারে আমদানি করা হলুদের কেজি ছিল ৯০ টাকা। গতকাল তা কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায় উঠেছে। রোজার আগে প্রতি কেজি কিশমিশ ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে পণ্যটির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কিশমিশের দাম ৩০০ টাকায় উঠেছিল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে টানা সরকারি ছুটি শুরুর পর পরই মসলাসহ ভোগ্যপণ্যের দামে এক দফা চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছিল। এরপর রোজা শুরুর সময় আরেক দফা দাম বাড়ে। তবে এরপর থেকে বাজার পরিস্থিতি কমতির দিকে ছিল। এখন রোজার মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে নতুন করে মসলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, শুকনা মরিচ, হলুদ ও কিশমিশের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। চাহিদা খুব একটা না বাড়লেও সরবরাহ সংকটকে কারণ দেখিয়ে ঈদের আগে পাইকারি বাজারের এক ব্যবসায়ীর হাত থেকে অন্য ব্যবসায়ীর হাতবদল হয়ে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে। এভাবে ব্যবসায়ীদের হাতবদল হয়ে পণ্যের দাম ওঠানামাকে স্থানীয়রা লোকাল ট্রেড বলে থাকেন।

এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের পাইকারি মসলাপণ্য ব্যবসায়ী মেসার্স জে আর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী জামশেদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, এখানকার বাজারে প্রতি বছরই কোনো না কোনো পণ্য নিয়ে লোকাল ট্রেড করেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক থাকলেও আমদানি বা সরবরাহ ঘাটতি, এমন কোনো ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে এক হাত থেকে অন্য হাতে ঘুরতে থাকে পণ্যটি। বাড়তে থাকে দাম। দীর্ঘদিন ধরে এলাচ ও জিরাকে ঘিরে লোকাল ট্রেড বা হাতবদল চলছে। ফলে মসলাপণ্য দুটির দাম হু হু করে বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জের মসলাপণ্য ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব বণিক বার্তাকে বলেন, কয়েক দিনে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। রোজার মাঝামাঝিতে সাধারণত মসলাপণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা না। কারণ এ সময় মসলাপণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে না। কিন্তু বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে রফতানিকারক দেশ থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি ব্যাহত হওয়া এবং আমদানি করা পণ্যের সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটায় পাইকারি বাজারে পণ্যের সংকট রয়েছে। যদিও এ সংকটে বাজারে পণ্যের দামে প্রভাব পড়ার কথা না। কিন্তু আমদানিকারক ও কিছু পাইকারি ব্যবসায়ীর লোকাল ট্রেডের কারণে মসলাপণ্যের বেচাকেনা বেড়েছে। দামও বাড়তে শুরু করেছে।

তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ খাতুনগঞ্জের অপর মসলা ব্যবসায়ী মো সেকান্দার। বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হাতবদল নয় বরং করোনা পরিস্থিতি মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মহামারী পরিস্থিতিতে অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, সরবরাহ ও বিক্রির দিকে নজর ছিল ব্যবসায়ী ও বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সবার। এ সময় মসলাপণ্যের আমদানি ও সরবরাহে বিঘ্ন হওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বাজারে বেশ কয়েকটি মসলাপণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। ঈদের আগে চাহিদা বাড়লে মসলাপণ্যের দাম বর্তমানের তুলনায় আরো বাড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর