শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন

অনিয়মের বিল ভোগান্তিসহ অর্থিক ক্ষতি থেকে মুক্তি চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২০, ৮:০১ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুতের সাড়ে ৪লাখ আবাসিক গ্রাহক

সরকারের অগ্রাধিকার উদ্যেগ বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ খাতের উত্তরণ এখন দৃশ্যত:। লোডশেডিং, যান্ত্রিকত্রুটি, সিষ্টেমলস, মিটারচুরি, সংযোগ ভোগান্তি ইত্যাদি নামের সমস্যাগুলির স্থান এখন যাদুঘরে। অথচ নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার গ্যাড়াকলে গ্রাহক ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি আজও পর্যন্ত নিত্য সঙ্গী হয়ে আছে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৫লক্ষ গ্রাহকের। তাদের অভিযোগ বিদ্যুৎ সরবরাহ পূর্বের তুলনায় কিঞ্চিত উত্তরণ হলেও প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উর্দ্ধে থেকে দিনের পর দিন মাস বা বছর ধরে মনগড়া ভৌতিক বিলের খড়গ চাপিয়ে নানামুখি ভোগান্তিসহ গ্রাহকের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। এমনকি করোনাকালে গ্রাহক স্বার্থে দেয়া সরকারী নির্দেশও মানা হয়নি। তবে বিল ভোগান্তির সত্যতা স্বীকার করে পরবর্তী মাসে তা ঠিক করে দেয়ার কথা জানালেন কর্তৃপক্ষ। যদিও বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে কর্তৃপক্ষের এমন আশ^াসে আস্থা রাখতে পারছেন না কোন গ্রাহক।
মিরপুর উপজেলার মাশান গ্রামের কৃষি মজুর আবাসিক গ্রাহক আসান আলীর অভিযোগ, জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী-মার্চ এই তিন মাসের বিল যোগ করে তিন ভাগ করলে গড় বিল হয় ৩৫১টাকা অথচ এপ্রিল মাসে অফিসে বসে গড় বিলের নামে আমার বিল করে দিয়েছেন ৫৭৩টাকা। এটা কোন জাতীয় গড় বিল ? পল্লী বিদ্যুৎ একবার যে বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘারে চাপায় তা আদায় করেই ছাড়ে।

ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রামের গ্রাহক স্কুল শিক্ষক আবুল খায়ের বলেন, এ যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া, একদিকে করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত লকডাউন বা সাধারণ ছুটিতে কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের আর্থিক ও খাদ্য সংকটে জীবন-জীবিকা নাভিশ^াস। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিলে বিলম্ব মাসুল মওকুপসহ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সরকারী নির্দেশনাকেও মানছেন না। গড়বিলের কথা বলে দ্বিগুন বা তিনগুন বেশী ভৌতিক বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘারে চাপিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ। সময়মতো বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেই লাইন ডিসকানেক্ট করবে এবং পূন:সংযোগ দেয়ার সময় গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির সাথে ভোগান্তিও রয়েছে।
সদর উপজেলার বারখাদা এলাকার সমিরুল সেখ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে মাঝে মধ্যেই এমন মনগড়া ভৌতিক বিলের ঘানি টানছেন। নিয়ম না মেনে এভাবে অতিরিক্ত বিলের টাকা আদায় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। আমি ২৫বছর পূর্বে পল্লী বিদুতের আবাসিক সংযোগ নিয়েছি। এভাবে অসংখ্যবার তাদের মনগড়া বিলের অতিরিক্ত টাকা শোধ করতে হয়েছে। ওরা একবার যে বিল গ্রাহকের হাতে ধরিয়ে দেয় তা ঠিক হোক বা ভুল হোক ওই বিল সংশোধন করার কোন উদাহরণ আমার চোখে পড়েনি। জেনে শুনে ইচ্ছা করেই এভাবে অতিরিক্ত বিল করে তা আদায় করে যাচ্ছেন। সিমাহীন এই ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির প্রতিকার চায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন মহলের কাছে।
পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এই গড় বিল করার ফলে জেলার দুর-দুরান্ত থেকে আগত গ্রাহকরা জড়ো হওয়ায় সামাজিক দুরত্ব লংঘনসহ ভোগান্তির মুখে বিল সংগ্রহ বুথের কর্মীরাও। তবে গড় বিলের কথা বলে প্রস্তুতকৃত বিল শুধুমাত্র বেশী হয়েছে কম হয়নি কেন এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেন নি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি,কুষ্টিয়ার বিল কালেকশন বুথের ক্যাশিয়ার তপতী রানী বিশ^াস।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কুষ্টিয়ার সভাপতি রেজওয়ান আলী বলেন, জেনারেল ম্যানেজার পবিস সদর দপ্তরের কথা বলে একক সিদ্ধান্তে এমন গড়মিল বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত এবং তার কারণে গ্রাহক ভোগান্তির প্রতিকার দাবি করলে তিনি পরবর্তী মাসে ঠিক করে দেবেন বলে জানান। তবে এজাতীয় সমস্যা এর আগেও হয়েছে; সংক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা হাইকোর্টে মামলাও করেছেন। কিন্তু প্রতিকার এখনও হয়নি জানিয়ে সমিতির সভাপতি অনুরোধ করেন- এই দুর্যোগের মধ্যে আর দুর্যোগের নিউজ করা দরকার নেই।
বিলিং সেকশন বা ফাইনান্স বিভাগের কর্মীরা অতিরিক্ত কাজের চাপ সামাল দিতে নির্ধারিত সময়ের অধিক সময় কাজ করতে হয় এবং প্রায় ৪লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের বিলিং সেবা দিতে গিয়ে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি হতে পারে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
এই সমিতির সাবেক সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে পবিস ব্যবস্থাপনার সান্নিধ্যে কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, পল্লী বিদুৎ সমিতি কর্তৃক ভৌতিক বিল প্রস্তুত করে প্রায় সাড়ে ৪লাখ আবাসিক গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গ্রাহক স্বার্থকে তুচ্ছ করায় প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেও টাকার জোরে পেরে ওঠেন না গ্রাহকরা। যদিও দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতের মালিক গ্রাহকগণ বলে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। কোন গ্রাহক এসমস্যার প্রতিকার চাইতে হলে একমাত্র আদালতই শেষ ভরসাস্থল বলে উল্লেখ করেন কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক এই সভাপতি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কুষ্টিয়ার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সোহরাব আলী বিশ^াস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, করোনাকালে সরকারী নির্দেশনায় গড় বিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত বিলের সমস্যা যাদের হয়েছে তাদের বলেছি; ধৈর্য ধরুন পরবর্তী মাসের বিলের সাথে সমন্বয় করে দেয়া হবে। তবে ভৌতিক বিল করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.