শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
দৈনিক হাওয়া ২২ জানুয়ারী ২০২১ ইং। অবৈধ সম্পদক অর্জন ঝিনাইদহের সাবেক ওসির ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় ২ আ’লীগ নেতাকে বহিষ্কার ফেব্রুয়ারিতে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুমারখালীতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দাঁড়ালো ইয়থ ডেভলপমেন্ট ফোরাম দৈনিক হাওয়া ২১ জানুয়ারী ২০২১ ইং। কুষ্টিয়া মিরপুর পৌরসভার একটি কেন্দ্রে পড়েছে শতভাগ ভোট কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুলের নতুন একাডেমিক ভবনের ছাদ ঢালাই কাজ উদ্বোধন কুমারখালী শিলাইদহ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন দৌলতপুরে অবৈধ ইটভাটায় র‌্যাবের অভিযান, ভ্রাম্যমান আদালতে ১১ ইট ভাটায় ৬৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায়

করোনায় কমেছে অপরাধ, কমেছে মামলার সংখ্যাও

অনলাইন ডেস্ক / ১১৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০, ৯:২১ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খুন-ধর্ষণসহ প্রায় সব ধরনের অপরাধ কমে এসেছে। আগের মাসগুলোর তুলনায় কমে এসেছে চুরির ঘটনাও। মাদকবিরোধী অভিযান না থাকায় কমে এসেছে মাদক মামলাও। এমনকি প্রতারণা বা নারী নির্যাতনের মামলাও কমেছে অনেকাংশে। গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল বা সাধারণ অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযানও প্রায় বন্ধ।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রাজধানীর ৫০টি থানায় মাসে গড়ে মামলা হয়েছে ২ হাজার ২০০টি করে। সেখানে এপ্রিল মাসে মামলা রেকর্ড হয়েছে ৩৪৯টি। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার কারণে অপরাধপ্রবণতা কমে এসেছে। আর বড় ধরনের অপরাধী ছাড়া সাধারণ অপরাধীদের ধরতে অভিযানও চালানো হচ্ছে না। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা সবাই করোনা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছেন বেশি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘করোনার কারণে অপরাধপ্রবণতা কিছুটা কমেছে ঠিক। কিন্তু পুলিশের তো বসে থাকার সুযোগ নেই। তারা করোনায় লকডাউনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগের জন্য মাঠে রয়েছে। থানাগুলোতে আগের তুলনায় সেবাভোগীদের সংখ্যাও কমেছে। যারা আসছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে, গত বছর (২০১৯) রাজধানীতে ২০৮টি খুনের ঘটনা ঘটে। সেই হিসেবে মাসে গড়ে ১৭টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২১টি করে খুনের ঘটনা ঘটলেও মার্চে ১৭টি ও এপ্রিলে ৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে ২০১৯ সালে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছিল ১৭৬টি। মাসে গড়ে ১৪টির বেশি ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটে। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম তিন মাস জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে যথাক্রমে ২১, ১৬ ও ১৬টি করে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটে। এপ্রিলে এই সংখ্যা কমে এসেছে ছয়টিতে। ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও কমে এসেছে। ২০১৯ সালে ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ২ হাজার ৪০৮টি। সেই হিসেবে মাসে গড়ে দুই শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যথাক্রমে ১৭২, ১৯৪ ও ১৮৭টি ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এপ্রিল মাসে এই সংখ্যা কমে এসেছে ৪৯ এ। চলতি বছরে রাজধানীতে এখনও কোনও এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি। ২০১৯ সালে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৯৮টি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই সংখ্যা ১২টি। এপ্রিল মাসে অপহরণের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে চুরিসহ মোট ২ হাজার ২১১টি মামলা রেকর্ড হয়েছিল। ওই হিসেবে মাসে গড়ে ১৮৪টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২০৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৮৭টি, মার্চে ১৫৯টি চুরির মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাস চুরির ঘটনা বাড়লেও এপ্রিলে এসে তা কমেছে। এপ্রিলে ১৯টি গৃহে চুরির ঘটনা ও ২৭টি অন্যান্য চুরির ঘটনা ঘটেছে।
নথি বলছে, গত বছর অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান উদ্ধারের ঘটনায় মোট ১৭ হাজার ১৬৬টি মামলা হয়েছিল। সেই হিসেবে মাসে গড়ে প্রায় দেড় হাজার মামলা হয়। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৩৪৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৩০টি, মার্চে ১ হাজার ১৫২টি মামলা হয়েছে। তবে এপ্রিল মাসে এই সংখ্যা কমে এসেছে প্রায় দশ ভাগের এক ভাগে। এপ্রিলে মোট ১২৩টি উদ্ধারজনিত মামলা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধপ্রবণতার পাশাপাশি মামলার সংখ্যাও কমেছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দাগি আসামি ছাড়া ছোটখাটো আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া কারাগারগুলোতেও করোনার কারণে নতুন আসামি ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হতে পারে বলে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে কম।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া বড় বড় মাদকের চালান ছাড়া ছোটখাটো মাদকবিরোধী অভিযানগুলো বর্তমানে বন্ধ। ছোটখাটো ক্রিমিনালদের গ্রেফতারের জন্যও গোয়েন্দা টিমগুলোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

থানায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও কম
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার কারণে অপরাধ কমে যাওয়ায় থানায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও কমে এসেছে। এরপরও যারা আসছেন তাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘থানায় আগের তুলনায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এখন দিনে একটি বা দুটি ঘটনায় লোকজন হয়তো আসে। থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবাগ্রহীতাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতসহ কেউ যদি থানায় আসেন বা বসেন তাহলে তিনি চলে যাওয়ার পর জীবাণুনাশক দিয়ে তা পরিষ্কার করা হচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.