শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার ইবি থানার রাস্তার বেহাল দশায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ কুমারখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় শ্রমিক নেতা নিহত কুমারখালী বাশগ্রাম বাজারে মহানবী (সাঃ) কে কটুক্তি করায় ছন্দ ষ্টুডিও ঘেরাও করেছে তৌহিদী জনতা ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার প্রতিবাদে ভিপি নূরের নেতৃত্বে রাজধানীতে মশাল মিছিল কুষ্টিয়ায় ঘাতক ট্রাক্টর কেরে নিল কোরআনে হাফেজ ফারুকের জীবন কুষ্টিয়ার সু-স্বাদু তিলের খাজা, দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ১৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ দৈনিক হাওয়া ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ইং। কুষ্টিয়ায় সফল অভিযানে ডিবি পেল পুরস্কার দৌলতপুরে ৪ ইটভাটা মালিককে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

কৃষি বাঁচলে অর্থনীতি বাঁচবে

Reporter Name / ৯০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০, ৮:০১ পূর্বাহ্ন

ঢাকা অফিস : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। খাবারের সন্ধানে শহর-গ্রামে গরিব মানুষের মিছিল প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে। দেশে খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান থাকায় সরকারের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে এই কাজ হারানো মানুষদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বা বাজারজাতকরণ ব্যাহত হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাই এই মুহূর্তে কৃষিতে বিশেষ নজর দেয়া দরকার বলেই মনে করছেন তারা, যাতে অন্তত খাদ্যের অভাব না হয়। তাদের মতে, দেশের কৃষি অর্থনীতি যদি সচল থাকে, তাহলে অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রও সচল থাকবে। তাতে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।

কোভিড-১৯-এর প্রকোপে এবার দেশের প্রবৃদ্ধির হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের প্রকোপ সামলাতে গিয়ে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছে। বলছে, টিকা ছাড়া এই রোগ সামলানো সম্ভব নয়। সেই টিকাও কবে আসবে, নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিধারায় কবে ফিরবে, তা একরকম অনিশ্চিত। সেটা না হলে দেশের বৃহত্তম ও রফতানিমুখী খাত তৈরি পোশাক কবে পুরোপুরি সচল হবে, তাও কেউ বলতে পারে না। অন্যান্য খাতের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। এই পরিস্থিতিতে কৃষিতে বিশেষ নজর দেয়া দরকার বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যাতে অন্তত খাদ্যের অভাব না হয়। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও কৃষি অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সরকার কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন ঋণের ক্ষেত্রে ৯ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাস পরবর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। যেখানে মৎস্য চাষি থেকে শুরু করে, পোলট্রি, ডেইরি বা যারা কৃষিকাজ ও বিভিন্ন ধরনের ছোটখাটো ব্যবসা করেন তাদের প্রত্যেকের কথা চিন্তা করে এবং অন্যান্য দিকে খেয়াল রেখেই এই এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। যেখান থেকে মাত্র ২ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হবে, যাতে তারা তাদের ব্যবসা চালু রাখতে পারেন।

তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সরকারের পক্ষ থেকে ২১ লাখ টন ধান-চালসহ খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। দুর্ভিক্ষ এড়াতে সাধ্যমতো ফসল উৎপাদন এবং দেশে কোনো জমি যেন পতিত না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্যও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি এক জমিতে একাধিক ফসল ফলানোসহ ঘরের পাশের এক চিলতে জায়গাটুকুও কাজে লাগানো, বাড়ির ছাদে টবে তরি-তরকারি, ফল-মূলের চাষ এবং মৎস্য ও গবাদিপশু প্রতিপালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিকে, কৃষিখাতে ঋণের সুদহার কমিয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনা ভাইরাসে কৃষিখাতের ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি আগামীতে খাদ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বর্তমানে কৃষিখাতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। তবে এখন গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদ আদায় করবে তারা। অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সুদ ক্ষতি বাবদ ভর্তুকি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এছাড়া, ধান কাটার জন্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় শ্রমিকদের হাওরা লে পাঠাতে শুরু করেছে। ধান কাটার যন্ত্রও পাঠানো হয়েছে সেখানে। সময়মতো ধান ঘরে তোলা গেলে খাদ্যের অভাব হবে না বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে কৃষক যেন ধানের প্রকৃত মূল্য পায়, সেটা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, এখন পর্যন্ত দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে।

এ ছাড়া সরকার খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য যে সব উদ্যোগ নিয়েছে তা যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কৃষক বাঁচবে, আর কৃষক বাঁচলে অর্থনীতিও বাঁচবে। দেশের মানুষকে অন্তত খাদ্য সংকটে পড়তে হবে না। তবে খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্য মজুদ, সরবরাহ এবং বাজারজাতকরণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সরকারকে আরো বেশি উদ্যোগ নিতে হবে। জানা গেছে, এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দুই কোটি টন। কিন্তু সরকার সাধারণত কেনে মাত্র ৫-৬ লাখ টন ধান। চালও কেনে সরকার, ১১ লাখ টন, তবে সেটা সরাসরি রাইস মিলগুলোর কাছ থেকে। সব মিলিয়ে মৌসুমের মোট ধানের ২-৩ ভাগ। বাকিটা সাধারণত বেসরকারি খাতের মিল মালিক ও ফড়িয়ারা নিয়ন্ত্রণ করে।

কৃষকের মজুদ করার গুদাম নেই। ফলে এই পরিস্থিতিতে সরকার মজুদের ১৭ লাখ টন চালের আরো কিছুটা খালি করে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার পরিমাণ বাড়াতে পারলে একদিকে কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে অন্যদিকে এই চাল কাজ হারানো মানুষদের মাঝে বিতরণ করতে পারবে সরকার। কিন্তু সরকার চালের গুদাম অর্ধেক খালি করতেও ভয় পায়। সরকারের ভাষ্য, চালের ব্যবসায়ীরা এই সুযোগের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকে, মজুদ অর্ধেকে নামলেই দাম বাড়িয়ে দেয় তারা।

অন্যদিকে গ্রীষ্মকালীন সবজির সময় এখন। কিন্তু পরিবহন ব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ায় কৃষকরা সবজি বাজারজাত করতে পারছেন না। গ্রামা লে সবজিসহ দুধ পানির দামে বিকোচ্ছে। কৃষকরা সবজিসহ দুধ রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের হালিও ২৫ টাকায় নেমে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও) করোনা মোকাবিলায় পুষ্টিকর খাবারসহ প্রাণিজ আমিষ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। ভোক্তার দিক থেকে এসব খাদ্যের দাম কমে আসা নিঃসন্দেহে খুশির খবর, কিন্তু দাম কমলে উৎপাদনকারীর বিপদ। দাম কমার কারণ হলো উৎপাদনের তুলনায় ভোগ অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়া। তবে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে পাইকারি বাজারে মুরগি আর ডিমের দামে উল্টো চিত্র দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান মানবকণ্ঠকে বলেন, সরকার এসএমই খাতে যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তাতে এই খাতের উদ্যোক্তাদের কথাও বলা হয়েছে। তবে এদের কাছে প্রণোদনার অর্থ ঠিকভাবে পৌঁছানো কঠিন হবে, কারণ এদের অধিকাংশই ব্যাংকে লেনদেন করে না। সে ক্ষেত্রে অন্য উপায়ে এদের কাছে ঋণের অর্থ পৌঁছাতে হবে। তা না হলে এই খাতটি ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়বে। পুষ্টি সংকট তৈরিরও আশঙ্কা আছে।

কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ প্রসঙ্গে কৃষিবিদ মো. আব্বাস আলী বলেন, এই পরিস্থিতিতে সরকারকে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে: ইউনিয়ন পরিষদ ভিত্তিক গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্রয়ের স্থান নির্ধারণ করা, যেখানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত গ্রীষ্মকালীন সবজি একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর রাখবে, স্কুল, কলেজ ও খেলার মাঠগুলোও আপৎকালে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সবজি সরাসরি ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সরবরাহ করা যেতে পারে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, জিডিপিতে কৃষির অবদান কমলেও এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত। জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ আসছে কৃষি থেকে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, দেশের শ্রমশক্তির ৬০ শতাংশের বেশি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে কৃষক যদি উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে না পারে বা কম দাম পায়, তাহলে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। অন্যদিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি তো বলেই দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.