বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১২:০৮ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় সরকারী চাল বিক্রী ও ভিজিডির চাল আত্মসাতের দায়ে পৃথক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতের মামলা

Reporter Name / ১০০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় সরকারী চাল বিক্রী ও ভিজিডির চাল আত্মসাতের দায়ে পৃথক ভাবে দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কুষ্টিয়ার আদালত। সোমবর দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক সেলিনা খাতুন এর আদালত স্ব-প্রনোদিত এই মামলাটি রেকর্ড করেন। পরে ওই আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত ক্রিমিন্যাল মিসকেস নং দৌলতপুর ০২/২০২০ এবং কুমারখালী মিসকেস নং ০১/২০২০ ফৌ:কা:বি: ১৯০(১)(সি) ধারায় আমলযোগ্য মামলার আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কুমারখালী ও দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদ্বয় কুষ্টিয়া বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত করেন। আদালতসুত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার ১৩নং খলিসাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল বিশ^াসসহ সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে ০১নং খলিসাকুন্ডি ওয়ার্ডের এক দুস্থ্য বাসিন্দা ভিজিডি খাদ্য সহায়তা প্রকল্পের ৭১নং কার্ডধারী মদিনা খাতুনের কার্ড আটকে রেখে বছরাধিকাল ধরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি হিসেবে ১২ মাসে ৩৬০ কেজি চাল আত্মসাৎ এবং কুমারখালী উপজেলার সদকি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার আলী ও তার ভাই হানিফের বিরুদ্ধে সরকারী ওএমএসের চাল এলাকার মানুষের মাঝে বেশী দামে বিক্রয় করার দায়ে অভিযোগ উঠায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত এই মামলা দুটি করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম “১৩মাস পর ভিজিডি কার্ড পেলেন মদিনা, ৩৬০ কেজি চাল উধাও” এবং “কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে সরকারী চাল কিনে খাচ্ছে হতদরিদ্ররা” গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন বিষয় আদালতের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় ইহা একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে আমলে নেয়া হয়েছে। ফলে উক্ত বিষয়টি তদন্তপূর্বক মামলা দুটি আগামী ১০-০৬-২০২০ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর ও কুমারখালী থানাকে নির্দেশ দেওয়া গেল।” এ ব্যপারে অভিযুক্ত দৌলতপুর উ্পজেলার ১৩নং খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সিরাজুল বিশ^াস বলেন, একটি মহল যোগসাজস করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা বানোয়াট নিউজ করানোয় আমার বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে। এখন আমি জানতে পারছি ওই মহিলা তার চাল পান না। তাছাড়া ওই মহিলাও কোন দিন আমার কাছে আসেননি। এছাড়া কুমারখালী উপজেলার ৪নং সদকী ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আলীগ নেতা আনছার আলী সেখ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে আদালত কর্তৃক মামলার বিষয়ে বলেন, আমার বাড়িতে কোন সরকারী চাল বিক্রী হয়নি; আমি নির্দোষ, মামলা হলে আর আমি কি করব ? যা হয় হোক। দৌলতপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, ভিজিডির চাল আত্মসাতের বিষয়টি তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। এছাড়া শুনেছি ইতোমধ্যে আদালতও স্ব-প্রনোদিত মামলা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছি এই বিষয়টি নিয়ে আমরা সমন্বিত ভাবে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব। সংশ্লিষ্ট দৌলতপুর ও কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ যথাক্রমে এএম আরিফুর রহমান এবং মজিবুর রহমান জানান, সরকারী চাল আত্মসাতের ব্যাপারে আদালত কর্তৃক মামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে আদেশের কপি এখনও হাতে পায়নি। হাতে পেলে নির্দেশনানুযায়ী তদন্তসহ আইনগত ব্যব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.