বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

ইসলামে আদল ও ইহ্সান -মোঃ রাশেদ খান

Reporter Name / ২১৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০, ২:৪৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রিয় জীবনে আদল ও ইহ্সানের আলোচনা ও এ দুটির পরিপালন একান্ত জরুরী।যেহেতু আমাদের রাষ্ট্রকাঠামো ইসলামের ধাঁচেই সাজানো তাই ইচ্ছে করলেই আদল ও ইহ্সানের প্রচার প্রসার ও পরিপালন সহজ। আদল মানে সুবিচার বা ন্যায়বিচার আর ইহ্সানের অর্থ উত্তম আচরণ বা ব্যবহার। বর্তমান বাংলাদেশ তথা বিশ্ব সমাজ ও রাষ্ট্রে এ দুটিরই বড় অভাব দেখা দিয়েছে।

আদলের সংজ্ঞা ও অর্থঃ
আদল একটি আরবি শব্দ।এর আভিধানিক অর্থ ইনসাফ করা, ভারসাম্য রক্ষা করা, সুবিচার করা, ন্যায়বিচার করা, বেশ কম না করা, কোন কিছু সোজা করা, যথাযথ বিনিময়, অনুদান, মানুষকে তার প্রাপ্য প্রদান করা এবং অন্যের প্রাপ্য তার থেকে আদায় করা ইত্যাদি।

আদলের প্রকারভেদঃ
আদল মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।১. ব্যক্তিগত ইনসাফ ও ২. সামাজিক ইনসাফ।

১. ব্যক্তিগত ইনসাফঃ
ইনসাফ যদি ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিবিশেষের গুণ হয় তাহলে তাকে ব্যক্তিগত ইনসাফ বলে। নিজের হক বা অধিকারকে পূর্ণরূপে আদায় করা এবং অন্যের হক বা অধিকারকে পূর্ণরূপে প্রদার করার নাম ব্যক্তিগত ইনসাফ।যেহেতু প্রত্যেকটি মানুষ তার সমাজের একজন সদস্য, তাই প্রতিটি সামাজিক খাত থেকে তার উপকৃত হওয়ার অধিকার রয়েছে।সামাজিক খাত থেকে তার নিজের প্রাপ্য অধিকার ঠিকঠাকভাবে বুঝে নেয়া এবং অন্যের অধিকার বা প্রাপ্য ঠিকঠাকভাবে বুঝিয়ে দেয়ার নামই হলো আদল বা ইনসাফ। এ কারণেই চুরি, ডাকাতি, হাইজাক, ছিনতাই, ঘুষ, চাঁদাবাজী, কমিশনবাজী ইত্যাদি অত্যাচার বা জুলুম বলে বিবেচিত।এতে ব্যক্তি তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।যে ব্যবসায়ী ওজনে বা পরিমাপে কম দেয় সেও একজন অত্যাচারী বা বঞ্চনাকারী।আদল বা ইনসাফ বা ন্যায়বিচার কায়েমের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো পক্ষপাতিত্ব।ক্ষমতাবানরা সবসময় দূর্বলের উপর এই পক্ষাতিত্ব করেই তার প্রতি জুলুম করে। যেমন, বিচারালয়ে বিচারপতি ক্ষমতাবানদের অঙ্গুলী নির্দেশে রায় প্রদান করলে বিচারপ্রার্থী বা আসামী পক্ষের যে কোন একপক্ষ জুলুমের শিকার হয়ে যেতে পারেন। একারণে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এরশাদ করেন,
“নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তীরা এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, যখন তাদের মধ্যকার কোন সম্ভ্রান্ত ও উচ্চশ্রেণীর লোক চুরি করত তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যকার কোন দরিদ্র অসহায় ব্যক্তি চুরি করত তার উপর হদ্ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি) জারি করত।আল্লাহর শপথ, যদি আমার মেয়ে ফাতিমাও চুরি করত তাহলেও আমি তার হাত কেটে দিতাম।“ (বুখারী ও মুসলিম)

আমার তো মনে হয় বিশ্বে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবের প্রধান কারণই হলো বিশ্বময় বিচারহীনতা। বিচারের নামে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করে সম্মানিত লোকেদেরকে হত্যা করা হচ্ছে! আমরা মুসলিম সমাজ, যারা কমবেশী কুরআনের চর্চা করি তারা কুরআনে বর্ণিত গর্তওয়ালাদের কাহিনী জানি যা বহু বহু কাল পূর্বের কাহিনী কিন্তু এই সেইদিন ১৯৪৮ সালে সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র হায়দারাবাদের নিজামের সাথে এবং তার মুসলিম জনগণের সাথে কি আচরণ করেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহারলাল নেহেরুর সরকার? মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে হায়দারাবাদের স্বাধীনতা-সার্বোভৌমত্ব ধুলিস্যাত করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি সেই তারা প্রায় ২০ লক্ষ মুসলিম জনগণকে নির্মমভাবে হত্যা করে হায়দারাবাদকে ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করেছিল!

মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, কোথাও কোন টোকাই বা পথশিশু ছোট খাট শিশু শুলভ অপরাধ করলে তাকে হত্যা করে উল্লাস করা হচ্ছে! অথচ লক্ষ্য করুন, আমাদের রাষ্ট্রে প্রতিদিন রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা (রাজনীতিক ও প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ) শুধু চুরি নয়, তারা সাগর চুরি করে চলেছে, কোন বিচার নেই! মহামারী পীড়িত মানুষের জন্য সরকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের দায়িত্ব যাদের দিয়েছেন তাদের কেউ কেউ তা লুটপাটে ব্যতিব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন, সেখানেও কোন বিচার নেই! ১০ টাকা দরের টিসিবির চাউল বিতরণের সময় দেখা যাচ্ছে যে, ডিলারগণ ওজনে কম দিচ্ছেন! কোথায় আছি আমরা! তার মানে এ রাষ্টে এখন আদল বা ইনসাফ বা সুবিচার বা ন্যায়বিচার কোনটিই উপস্থিত নেই। অতএব, আমাদের সমাজে আদল প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের প্রয়োজন বা দাবি।

মানুষ নানা করণে আদল বা ইনসাফ করতে পারে না।১. প্রেম ও ভালোবাসা, ২. ব্যক্তি স্বার্থ ও ৩. বাহ্যিক প্রভাব।মূলত এ তিন করণেই মানুষ স্বভাবজাত আকর্ষণের প্রভাবে পক্ষপাতিত্বের ফাঁদে পড়ে প্রকৃত আদল বা ইনসাফের পথ থেকে ছিটকে পড়ে। সকল ধর্মের মানুষের কাছেই এ কথা সমভাবে প্রযোজ্য।আদল বা ইনসাফ তথা ন্যায়বিচারের একটি সঠিক ও নির্ভূল রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে আল কুরআনের এই আয়াতে কারিমায়,

“নিশ্চয় আমি আমাবর রসূলগণকে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও ন্যায়নীতি দিয়েছি যাতে তাঁরা মানুষের মধ্যে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।আমি লোহাও নাজিল করেছি যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং রয়েছে মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ।“ (সূরা আল-হাদীদ)

অবিচার, অনাচার, পক্ষপাতীত্ব, এগুলো সমাজের ভয়াবহতম ব্যাধীর নাম। এ সমস্ত ব্যাধী নিরাময়ের বিধিবিধান, উপায়-উপকরণ ইসলাম দিয়েছে। সেজন্য, আমাদের পক্ষপাতিত্বের মূলৎপাটন করতে হবে।কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় স্বীয় প্রবৃত্তি ও সভাবজাত আকর্ষণাবলী পরিহার করতে হবে এবং নিজের আখিরাতের কথা মাথায় রাখতে হবে। মানুষ যদি আখিরাতমুখী হতে পারে তাহলে সে তার মধ্যে ন্যায়বিচার বা আদল করার যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হবে সেই সাথে পক্ষপাতিত্ব নামের ব্যাধীর মূলোৎপাটিত হবে।আর সেই সাথে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির আমুল পরিবর্তন আনতে হবে এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিতে হবে।ন্যায়বিচারের জন্য বিচারকদের যোগ্যতার মাফকাঠি হতে হবে তার দ্বীনিয়াত বা আখলাক কেমন।আর তিনি তার জীবনে আখিরাত মুখী কিনা।তিনি শুধু উভয়পক্ষের উকিলের শুনানীর উপর নির্ভর করে রায় দিতে পারেন না। তিনি রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে নিজের বিবেক কে কাজে লাগাবেন।রায় দেয়ার পূর্বে তিনি আসামী ও অভিযোগকারীর ব্যক্তি জীবনের খুটিনাটি বিষয়াদির ব্যাপারেও যথাসাধ্য খোঁজ খবর নেবেন।কারণ তার কাছে তাদের বিষয়ে খবর নেয়ার মত প্রচুর উপায়-উপকরণ রয়েছে।তিনি সে গুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।তিনি কোন ভাবেই ক্ষমতাবানদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা অন্য কোন উপায়ে প্রভাবিত হয়ে রায় দিতে পারবেন না। তিনি অবশ্যই বিবেকের দ্বারা ন্যায়সংগত রায় দেবেন।কোন অবস্থাতেই তিনি ন্যায়ভ্রোষ্ঠ রায় দেবেন না।ধরুন, একটি মামলা এমন যে, কোন একটি মামলার ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে।এবং বলা হচ্ছে যে, তিনি ৫০ বছর পূর্বে বহুসংখ্যক মানুষকে খুন করেছিলেন। কিছুসংখ্যক স্বাক্ষীও হাজির করা হয়েছে এবং তারা স্বাক্ষী দিচ্ছে যে, তারা বল্টুর নিকট থেকে শুনেছে এবং বল্টু বলছে যে, সে ঘন্টুর নিকট থেকে শুনেছে এবং সে ছিল চাক্ষুস স্বাক্ষী। ঘন্টুকে যখন আদালতে হাজির করা হলো তখন সে বলল, আমি তিন কিলোমিটার দূর থেকে আসামীকে খুন করতে দেখেছিলাম।এখন আসামীর কাঠগড়ায় দণ্ডায়মান শুভ্র ও স্বজ্জ্বন ব্যক্তিকে দেখে বিচারক ধারণা করছেন যে, এমন একজন স্বজ্জ্বন ব্যক্তির পক্ষে তৎকালে কি করে এ জঘন্য কাজটি করা সম্ভব ছিল! আর এ ব্যক্তি তো বর্তমান সমাজে অত্যন্ত সম্মানীয় এবং তার অতীত জীবনেও এ ধরনের অন্য কোন ঘটনার কথা যানা যায় না।আর বিচারকের এ ভাবনাকেই বলা হয় বিবেক।আর অনুসন্ধানী বিবেকই আসলে জীবন্ত বিবেক।

ন্যায়বিচারের আরেকটি উপাদান হলো, জ্ঞানের ভিত্তিতে মতামত দেয়া।ধরুন, কোন সমাজের একজন বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তি বা স্কুলের শিক্ষক যদি আপনার সন্তানকে শাসন করেন তবে, তার বিরূদ্ধে আপনি মন্দ মন্তব্য করবেন না কারণ তিনি আপনার ও আপনার সন্তানের কল্যাণকামী। আবার পিতা-মাতা যদি সন্তানদের গালমন্দ করেন তাকে কিছুতেই পিতা-মাতা রঢ় ব্যবহার করেন তা বলা যাবে না। করাণ পিতা-মাতা সর্বদায় তাদের সন্তানের কল্যাণকামী।প্রয়োজন, সমস্যার মূল কারণ ও উৎসের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

সামাজিক ইনসাফঃ
ন্যায়বিচার বা আদলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে, সামাজিক ইনসাফ।দার্শনিক প্লেটো আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি দারুন সংজ্ঞা দিয়েছেন,

“সে রাষ্ট্র সর্বোত্তম, যে তার প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিজ নিজ উপযুক্ততা অনুসারে উত্তম বাসস্থানের ব্যবস্থা করে এবং তার যোগ্যতাকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে সর্বপ্রকার সহযোগিতা লাভ করে।“

ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ বলতে সে সমাজকে বুঝায়, যে সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি নিজের যোগ্যতানুসারে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নিজের ও সমাজের উন্নতি বিধান করতে পারে। সুতরাং কোন সমাজকে ততক্ষণ পর্য্ন্ত ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বলা যাবে না যতক্ষণ পর্য্ন্ত সে সমাজে সকল শ্রেণীর মানুষের উন্নতির উপায়-উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান না থাকবে।যেমন ধরুন, সমাজের একশ্রেণী হলো ব্যবসায়ী। তারা তাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা যেমনঃ টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাক, রেলওয়ে, বিমান ইত্যাদির মুখাপেক্ষি। সমাজে আরেক গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণী হচ্ছে ছাত্রসমাজ। তারা বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান অর্জনের জন্যে লাইব্রেরী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োমশৃঙ্খলা, শিক্ষাপোকরণ, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদির চাহিদানুসারে সরবরাহ চায়।আরেক শ্রেণী হচ্ছে নির্যাতীত ও ন্যায়বিচারপ্রার্থী সমাজ। তারা আদালত, বিচারক ও এমন ন্যায়নানুগ আইনকানুনের প্রত্যাশী যা দ্বারা সমাজের প্রতিটি মানুষের অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং প্রকৃত অপরাধী সাজা পায়।আরেকটি বড় শ্রেণী হলো শ্রমজীবি সমাজ।তারা কর্ম চায়, কর্মস্থল যেন তার স্বাস্থ্যের জন্যে হুমকি হয়ে না দাড়ায়, যোগ্যতা ও কাজের ধরণ অনুযায়ী যেন সে পারিশ্রমিক পায়, সময়মত যেন পারিশ্রমিক পায়, মালিকপ্ক্ষ যেন তাকে গোলাম না ভাবে ইত্যাদি।সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণী হলো কৃষক সমাজ। তারা সময়মত উন্নত জাতের বীজ চায়, সময়মত সেচের ব্যবস্থা চায়, ভূমি কর্ষণের জন্যে উপযুক্ত কৃষি যন্ত্রপাতি চায়, সময়মত কিটনাশক ও রাসায়নিক সার চায়, উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য চায়, বাজারজাত করার জন্য বাজার ও আধুনিক রাস্তা ও যানবাহন চায় ইত্যাদি। এ ধরনের আরো বহুবিধ শ্রেণী সমাজে বসবাস করছে। যদি সমাজের নিয়মশৃঙ্খলা ও আইনকানুন প্রতিটি শ্রেণীপেশার মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয় তবে সেই সমাজকে ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বলা যাবে।

সমাজে আদলের গুরুত্ব ও তাৎর্পযঃ
মানব জীবনে আদল একটি মহৎ গুণ।আমাদের প্রতিপালক মানুষের মধ্যে এ গুণটিকে বড় পছন্দ করেন।পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রিয় জীবনে সুখ, শান্তি ও শৃঙ্খলার মূল ভিত্তিই হলো আদল বা ন্যায়বিচার। সুতরাং মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগে আদলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি, শ্রমনীতি, শিল্পনীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি প্রভৃতি যেখানেই আদলের অনুপস্থিতি থাকবে সেখানে জুলুম, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল অবশ্যম্ভাবী হিসেবে দেখা দেবে।সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে আদল বা ন্যায়বিচারের গুরুত্ব অপরিসীম ও অপরির্হায্য।আদল বা ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে নিম্নবর্ণিত বিষয় ও বিভাগের দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজনঃ
১. সুবিচার প্রতিষ্ঠা ২. সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ৩. মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠা ৪. ব্যবসায় বাণিজ্যে ও বিনিয়োগে শৃঙ্খলা বিধান করা ৫. প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নীতিমালার অনুসরণ করা ৬. প্রত্যেক দ্বায়িত্বশীলের মধ্যে তাকওয়া অর্থাৎ আল্লাহ্ ভীতি তৈরী করা ৭. ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা ও ৮. সবাইকে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্বে কাজ করার মানসিকতা তৈরী করা।

ইহসানঃ
ইহসান মানব জীবনের একটি মহৎ গুণ। মানুষ তার স্রষ্ঠার প্রতি ইহসান করবে এবং তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি ইহসান করবে এটা মুমিন জীবনের ভুষণ। আরবী হুসনুন শব্দ থেকে ইহসান শব্দটির উৎপত্তি। হুসনুন শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উত্তম ব্যবহার, বদান্যতা, হিতাকামিতা, দানশীলতা, অনুকম্পা, সুন্দর ও সৌন্দর্য্। মূলগত দিক থেকে কোন কিছু সুন্দর ও উত্তমরূপে সম্পাদন করার নাম ইহসান।ইহসান মানে ঐ কাজ যা সুন্দর সুষ্ঠুভাবে ও ভালোভাবে করা হয়েছে। দয়া, নিষ্ঠা, সৌজন্যমূলক আচরণ, সদ্ব্যব্হার এবং সুন্দর শোভন, কাঙ্খিত কাজ করা, পরোপকার অর্থেও এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইহসান এর ব্যবহারিক অর্থ পরোপকার করা, একারণে কেউ কারো ব্যবহারে সন্তুষ্ট হলে তাও ইহসান বলে বিবেচিত হয়। উত্তম, ভাল ও কল্যাণকর কাজকেও ইহসান বলা হয়। আল কুরআনে “ইহসান“ শব্দটি সদাচার, সদয় ব্যবহার, যথাযথ কাজ সম্পাদন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।ইহসান সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করতে তিনি বলেন, “তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ।আর যদি এমন হয় যে, তুমি থাঁকে দেখতে পারছ না তবে যেন তিনি তোমাকে দেখছেন এমন হয়।“ আল্লাহ সব ব্যাপারেই ইহসানকে অবশ্য পালনীয় করে দিয়েছেন।ইসলামী শরীয়াতের পরিভাষায় স্রাষ্টা এবং সৃষ্টির প্রতি মানুষের যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ রয়েছে তা নিষ্ঠা ও ঈমানদারীর সাথে যথাযথভাবে উত্তমরূপে সম্পন্ন করাকে ইহসান বলে। হাসান আল বান্না বলেন, “ইহসান হলো আল্লাহ প্রদত্ত ও মহানবী (সাঃ) প্রদর্শিত ইসলামী জীবন বিধানের প্রতি গভীর ভালবাসা ও সম্পৃক্ততা যা ঈমানদারকে দ্বীনের সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করার জন্য স্বীয় জান ও মাল সবকিছূ উৎসর্গ করার জন্যে প্রস্তুত করে তোলে।“

ইহসান দুই প্রকারঃ
১. স্রষ্টার প্রতি ইহসান ২. সৃষ্টির প্রতি ইহসান

১. স্রষ্টার প্রতি ইহসানঃ ইহসান সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করতে তিনি বলেন, “তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ।আর যদি এমন হয় যে, তুমি তাঁকে দেখতে পারছ না তবে যেন তিনি তোমাকে দেখছেন এমন হয়।“ কাজেইে এরূপ প্রত্যয় নিয়ে কাজ করলে তার মধ্যে পার্থিব লোভ-লালসা, খ্যাতীর মোহ এবং লোক দেখানোর মনোবৃত্তি আদৌ সৃষ্টি হতে পারে না।এমন মানুষ তার রবের নিকটবর্তী হয়ে যায়, আর এটা হলো স্রষ্টার প্রতি ইহসানের লক্ষণ।

২. সৃষ্টির প্রতি ইহসানঃ অত্যন্ত ভালবেসে আল্লাহপাক মানুষ জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। তাকে করেছেন সৃষ্টির সেরা মাখলুকাত।মানুষকে তিনি পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি বা খলিফা নিযুক্ত করেছেন। এজন্য আলআহর প্রতিনিধি হিসেবে স্রষ্টার সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ মাখলুক হিসেবে প্রত্যেকটি মানুষের নিজের প্রতি, পরিবার-পরিজনের প্রতি, আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, গরীব-দুঃখী, এতিম, বিধবা এক কথায় সকলের প্রতি এবং অন্যান্য প্রাণিকূলের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এ দায়িত্ব ও কর্তব্য আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাঃ) এঁর নির্দেশনানুযায়ী যথাযথভাবে সম্পন্ন করার নামই ইহসান।সকল প্রাণই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তাই কোন তুচ্ছ প্রাণির ক্ষেত্রেও সদাচার করার তাগিদ রয়েছে। তিনি মানুষকে তাঁর সৃষ্টিকূলের প্রতি ইহসান করার আদেশ দিয়ে বলেন,
“তুমি ইহসান কর, যেমন মহান আল্লাহ্ তোমার প্রতি ইহসান করেছেন।“ (সূরা আল-কাসাসঃ ৭৭)
“নিশ্চয় আল্লাহ্ ন্যায়বিচার ও ইহসানের আদেশ দিচ্ছেন“ (সূরা আল-নাহলঃ ৯০)

মানুষ তার নিজ জীবনের স্বার্থেই অন্যান্য জীবের প্রতি দয়া বা ইহসান করবে এটাই আল্লাহর আদেশ। এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত দুটি ঘটনা উল্লেখ করা প্রাসংগিক হবেঃ-

“বনী ঈসরেঈলের এক মহিলা একটি বিড়াল পুষতো, কিন্তু সে বিড়ালটিকে পানাহার না দিয়ে ক্ষুধার্ত রেখে মেরে ফেলে। বিড়ালটির প্রতি এমন নির্দয়, নির্মম ও অমানবিক আচরণে মহান আল্লাহ্ অসুন্তুষ্ট হয়ে তাকে দোযখে নিক্ষেপের নির্দেশ দেন। পক্ষান্তরে, এক দ্বিচারিণী, পাপিষ্ঠা রমনী নিজের মাথার ওড়না ছিঁড়ে চামড়ার মোজায় বেঁধে কূপ থেকে পানি তুলে সে পানি পিপাসার্ত মৃতপ্রায় একটা কুকুরকে পান করিয়ে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ্পাক খুশি হয়ে তাকে ক্ষমা করে জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দেন।“

মানুষের প্রতি আমাদের মহান রবের দয়া-মায়া-মমতা আর করুণার কোন শেষ নেই। এরশাদ হচ্ছে,
“আর তোমরা ইহসান কর, নিঃসন্দেহে ইহসানকারীকে আল্লাহ্ তায়ালা ভালবাসেন।“ (সূরা আল-বাকারাহ্ঃ ১৬৫)
“তুমি ইহসান কর, যেমন আল্লাহ্ তোমার প্রতি ইহসান করেছেন।“ (সূরা আল-কাসাসঃ ৭৭)
“যদি তোমরা ইহসান কর তবে নিজেদের জন্যেই করলে, আর যদি তোমরা অনিষ্ট সাধন কর তাহলে তাও তোমাদের উপরেই বর্তাবে।“ (সূরা বানী ঈসরাঈলঃ ৯)

এ প্রসংগে প্রিয় রসূল (সাঃ) এরশাদ করেন,
“যারা জমিনবাসী, তাদের প্রতি তোমরা দয়া কর, তাহলে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।“(বুখারী)
“আল্লাহ্ তার প্রতি অনুগ্রহ করেননা, যে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না।“(বুখারী ও মুসলিম)ম
“যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না সে আমাদের দলভূক্ত নয়।“ (মুসলিম)
“এক মুসলিম অন্য মুসলিমের দ্বীনি ভাই। সুতরাং তোমরা এক মুসলিম অন্য মুসলিমের প্রতি জুলুম করো না, তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।“ (বুখারী ও মুসলিম)
এ রকম শত শত হাদীস সিয়াহ্-সিত্তাহ্র গ্রন্থগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।কুরআনের বহু আয়াত ও শত শত হাদীস প্রমাণ করে ইহসান গুরুত্ব কত।ইসলামী শরীয়াত থেকে একথা বুঝা যাচ্ছে যে, ইহসানের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক।
ইহসানের কয়েকটি উপায়ঃ
মূলত একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী, সুন্দর,শান্তিপূর্ণ সমাজ বির্নিমাণে ইহসানের কোন বিকল্প পদ্ধতি আর নেই।এখানে একে অন্যের প্রতি ইহসানের কয়েকটি উপায় দেয়া হলোঃ-
ক) অভাবগ্রস্তদের অভাব দূরকরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করা।
খ) ঋণ পরিশোধে অসামর্থ্য ব্যক্তিকে ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা, নিজে পাওনা হলে ক্ষমা করে দিয়ে তার প্রতি ইহসান করা।
গ) পাড়া-প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে কোন প্রকার মনোমালিন্য হলে তা অন্তর থেকে মুছে ফেলে তাদের সাথে সদয় আচরণ করা।
ঘ) কোন কাজে বা কথায় ক্রোধের সঞ্চার হলে তা দমন করে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
ঙ) পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির যোগান দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট রাখা এবং কোন দোষ-ত্রুটি প্রকাশ পেলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করা।
চ) আতিথেয়তা, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান, দূর্বলকে সবলের নিপীড়ণ থেকে রক্ষা করা, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান এবং শ্রেণী নির্বিশেষে সবার সাথে সহাস্যবদনে কথাবার্তা বলা, এমনকি প্রতিবেশী অত্যাচারী হলেও তার সাথে সদাচার করা।
ছ) জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করা।

এগুলো সবই ইহসানের অন্তর্ভূক্ত। সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি বা সদস্য উপরে বর্ণিত গুণাবলীর অধিকারী হলে সে সমাজ সুখময় পরিবেশ বিরাজ করবে এবং কোন ধরনের অশান্তি, বিশৃঙ্খলা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। বস্তুত ইহসান প্রতিষ্ঠাই ছিল রসূল (সাঃ) এঁর মিশনের অন্যতম।রসূল (সাঃ) আজীবন এমন একটি সহানুভূতিশীল, মানবতাবোধসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কঠোর প্রয়াস অব্যাহত রেখেছিলেন। এ লক্ষকে সামনে রেখে তিনি মক্কা বিজয়ের পর ঘোষণা করলেন, “তোমাদের বিরূদ্ধে আজকে কোন অভিযোগ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত, স্বাধীন।“

ইহ্সানের গুরুত্বঃ
“যদি তোমরা ইহসান কর তবে নিজেদের জন্যেই করলে, আর যদি তোমরা অনিষ্ট সাধন কর তাহলে তাও তোমাদের উপরেই বর্তাবে।“ (সূরা বানী ঈসরাঈলঃ ৯)
আগেই বলেছি, ইহসান মুমিন জীবনের ভূষণ।মানুষের জীবনে ও মানুষের সমাজে ইহসানের গুরুত্ব অপরিসীম।ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইহসানের গুরুত্ব রয়েছে।

১. শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমঃ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় ইহসানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।আল্লাহর সৃষ্ট সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকাত মানুষ যদি স্বীয় জ্ঞান, বুদ্ধি, ধনসম্পদ, শক্তি ও সামর্থ দ্বারা ইহসান করে তাহলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্য, সংহতি ও শৃঙ্থলা সু-প্রতিষ্ঠিত হবে।যেমন ধরুন, বর্তমানের বিশ্ব এক বিরল সংকটের মুখে নিপতীত হয়েছে।সেখানে কোথাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী নেই, প্রতিষেধক ঔষধ বা টিকা নেই।কারণ, বিশ্ব সম্প্রদায় তাদের অর্জিত জ্ঞানগরীমা মানব কল্যাণে কাজে না লাগিয়ে মানবজাতিকে ধ্বংসের কাজে ব্যায় করেছে।বিজ্ঞানকে যদি তারা মানব কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্যে কাজে লাগানোর ইচ্ছা করত তাহলে তারা মার্নাস্ত্র তৈরীতে অর্থ-সম্পদ ব্যয় না করে শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণার কাজে লাগিয়ে পৃথিবীবাসীর বহু কল্যাণ সাধন করতে পারত। আর সেটাই মূলত ইহসান বলে বিবেচিত হত।আর পৃথিবীর কোন প্রান্ত হতেই মজলুম জনতার আর্তনাদ শুনতে হত না শুনতে হত না পৃথিবীর দিকে দিকে নারী শিশুর আর্তচিৎকার! অভিবাসন ঠেকাতে পৃথিবীবাসীকে হিমসীম খেতে হত না নিশ্চিত।

২. মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার উপায়ঃ মানুষ যখন একে অপরের প্রতি ইহসান করে তখন যে ব্যক্তি ইহসান পাচ্ছে সে ইহসানকারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং উভয়ের মধ্যে সম্প্রীতি, মমত্ববোধ ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় উপরন্তু, পারস্পারিক মেলবন্ধন ও বন্ধুত্ব সুদৃঢ় হয়।

৩. সুসম্পর্ক গড়ে উঠার মাধ্যমঃ ইহসানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পারিক আন্তরিকতা, সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে। এর ফলশ্রুতিতে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, গীবত, পরশ্রীকাতরতা, চোগলখোরী ইত্যাদি দূর হয়ে যায়।
৪. আল্লাহ্র সন্তুষ্টি হাসিলের মাধ্যমঃ ইহসান আমাদের দয়ালু আল্লাহ্পাকের বিশেষ সিফাত বা গুণ।এই গুণ মহান আল্লাহ্ তাঁর গোটা সৃষ্টির উপর সমভাবে প্রয়োগ করে চলেছেন। এ জন্যেই আল্লাহ্ সেসব বান্দাগণকে ভালোবাসেন যারা আল্লাহ্র এ গুণকে নিজের জীবনের গুণান্বিত করেন। আল্লাহ ইহসানের নির্দেশ দিয়ে ঘোষণা করেন, “তোমরা ইহসান কর, নিশ্চয় আল্লাহ্ ইহসানকারীকে ভালোবাসেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ ইহসানকারীদের সংগে আছেন।“

৫. ইহসানকারীর উপকারঃ ইহসান করার মাধ্যমে ইহসানকারী নিজেও উপকৃত হয়। এ মর্মে মহান আল্লাহ্ রববুল আলামীন এরশাদ করেন,
“যদি তোমরা ইহসান কর তবে নিজেদের জন্যেই করলে, আর যদি তোমরা অনিষ্ট সাধন কর তাহলে তাও তোমাদের উপরেই বর্তাবে।“ (সূরা বানী ঈসরাঈলঃ ৯)

উপসংহারঃ
উপরোক্ত বর্ণিত আলোচনায় দেখা যায় যে, ইহসান একটি মানবীয় মহৎ গুণ যা মহান আল্লাহ্র সিফাত হতে উৎসারিত হয়ে মানুষের মধ্যে অবস্থান করছে।যে সমাজ ও রাষ্ট্রের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আল্লাহ্র সিফাতী গুণ বহুল পরিমাণে বিদ্যমান সে সমাজই কল্যাণ সমাজ আর সে রাষ্ট্রই কল্যাণ রাষ্ট্র। তাই পারস্পারিক স্নেহমমতা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, সমাজিক সুখ-শান্তি, ঐক্য ও সংহতি সর্বোপরি আল্লাহ্র নৈকট্য লাভে ইহসানের গুরুত্ব অপরিসীম।

ইসলামে আদল ও ইহ্সান
মোঃ রাশেদ খান
চেয়ারম্যান-মডার্ণ স্ট্রাকচার্স লিঃ
সাধারণ সম্পাদক-স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসবিএমএ)
পরিচালক-বাংলাদেশ ইন্ডের্ন্টি এজেন্টস্ এ্যাসোসিয়েশন (বিআইএএ)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.