বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
দৈনিক হাওয়া ২৫ নভেম্বর ২০২০ ইং। কুষ্টিয়া মঙ্গলবাড়িয়ায় ৬বছরের শিশুর গায়ে আগুন লাগিয়ে হত্যার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় দূর্ঘটনায় এক মটরসাইকেল আরোহী নিহত কুষ্টিয়ায় ৫২ বোতল ফেনসিডিল সহ একজন আটক কুষ্টিয়া চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের ৬ মাস বেতন-ভাতা বন্ধ,১৯ বছরে লোকসান ৪১৫ কোটি কুষ্টিয়ায় চাল আত্মসাতের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে রাস্তাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কবুরহাটে স্কুল শিক্ষকের উপর বর্বরোচিত হামলা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মহাসড়কের দুইপাশ খালি করার নির্দেশ; কুমারখালী ইউএনও দৈনিক হাওয়া ২৪ নভেম্বর ২০২০ ইং। সাবেক যুবলীগ নেতার কাজী আনিসের এক শ’ কোটি টাকার অর্থ-সম্পদ জব্দ

হাসপাতালে সংক্রমণ অন্য রোগীদের বিপদ

Reporter Name / ১০৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০, ৮:১৬ পূর্বাহ্ন

► এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কমপক্ষে ৩০টি হাসপাতালে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে
► চিকিৎসাকর্মীরা আইসোলেশনে বা কোয়ারেন্টিনে যাওয়ায় মাঠ পর্যায়ের হাসপাতাল চালু রাখা মুশকিল

ঢাকা অফিস : করোনাভাইরাসে চিকিৎসক কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হলে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ওই হাসপাতাল। সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই এ ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০টি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ অথবা আংশিক বন্ধ করা হয়েছে। এসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাত্ক্ষণিক এই সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো হাসপাতালে কোনো একটি ইউনিটে কেউ সংক্রমিত হলেই পুরো হাসপাতাল লকডাউন বা বন্ধ করে দেওয়ার দরকার নেই। শুধু নির্দিষ্ট ইউনিট এবং যিনি সংক্রমিত হয়েছেন তাঁর ব্যবহৃত চলাচলের পথটুকুতে জীবাণুনাশক প্রয়োগ করলেই সমস্যা কেটে যায়। এটি না করে পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে অন্য রোগীদের ভোগান্তি বাড়বে। এ পর্যন্ত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি ইউনিট, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি ইউনিট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের একটি ইউনিট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একটি ইউনিটে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী ও চিকিৎসক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জেলা ও উপজেলার সরকারি হাসপাতালে সংক্রমণের পরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাত্ক্ষণিক হাসপাতাল বন্ধ করে রোগীদের সরিয়ে নেয়। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সাবেক এ্যাপোলো হাসপাতাল, শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আল-বারাকা ইনসাফ হাসপাতাল, এক্সিম ব্যাংক হাসপাতালসহ আরো কয়েকটি হাসপাতালেও সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলেন, ‘কোনো হাসপাতালই বন্ধ নয়। সব হাসপাতাল চালু আছে। অন্য রোগীদের সেবা চলছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সরকারের কভিড-১৯ বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিটি হাসপাতালকে সতর্ক থাকতে হবে, কেউ সংক্রমিত হলেই দ্রুত হাসপাতালের ওই অংশ জীবাণুমুক্ত করে আবার সেবা স্বাভাবিক করতে হবে। এর জন্য আগের এবং নতুন গাইডলাইন অনুসরণ করা জরুরি। গাইডলাইনে বলা আছে সংক্রমণ পতিরোধে কী করতে হবে, সংক্রমিত হলে কী করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটি জানে। তবেই রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যদের সুরক্ষা মিলবে, হাসপাতালও চালু থাকবে।’

রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো হাসপাতালে সংক্রমণের ঘটনা ঘটলেও সেটা বন্ধ করা যাবে না। বরং যত দ্রুত সম্ভব জীবাণুমুক্ত করে ফের তা চালু করতে হবে অন্য রোগীদের স্বার্থে। এর জন্য খেয়াল রাখতে হবে, যাতে অন্য রোগীরা বিপদগ্রস্ত না হয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আমিনুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংক্রমণের পরই কোনো কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হুট করে পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়। যেমনটা নারায়ণগঞ্জে হয়েছিল। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠিয়ে দ্রুত ওখানকার পরিবেশ সংক্রমণমুক্ত করে আবার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করেছি। এ ছাড়া অন্য যে হাসপাতালেই ঘটনা ঘটছে, আমরা ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত ইউনিট জীবাণুমুক্ত করতে বলে দিই। এ কাজে যাঁরা আন্তরিক নন, তাঁদের অন্য সমস্যা থাকতে পারে। সবটা হয়তো আমাদের নজরে আসে না।’

বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি। এ পর্যন্ত ঢাকার বাইরে প্রায় ১৫টি এবং ঢাকায় ৭টি প্রাইভেট হাসপাতালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হাসপাতাল সংক্রমণমুক্ত করে আবার চালু করা হলেও অনেকগুলো এখনো চালু করা যায়নি। আমরা এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সরকার যেভাবে সরকারি চিকিৎসাকর্মীদের প্রণোদনা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, সেখানে বেসরকারি চিকিৎসাকর্মীদেরও যুক্ত করতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’

আবার যেসব হাসপাতালে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে হাসপাতাল চালু রাখার ব্যবস্থা করা হলেও চিকিৎসাকর্মীদের কোয়ারেন্টিনে রাখায় দেখা দিয়েছে জনবলসংকট। কিভাবে এ সমস্যা সামাল দেওয়া যাবে তা নিয়েও চিন্তায় পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা অল্পসংখ্যক চিকিৎসক বা নার্স সংক্রমিত হয়ে আইসোলেশনে গেলে ওই ধরনের হাসপাতাল প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর ঢাকার বড় বড় হাসপাতালে বিকল্প চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চালু রাখার চেষ্টা চলছে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজল কর্মকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণত হৃদরোগে আক্রান্তরাই আসেন। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। অন্যদের করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর এরই মধ্যে একজন করে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ঝুঁকির কারণে ২১ জন নার্স ও ১০ জন চিকিৎসক কোয়ারেন্টিনে আছেন। আমরা পুরো হাসপাতাল বন্ধ করিনি। শুধু যেসব কেবিন, ইউনিট বা ওয়ার্ডে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো সাময়িক বন্ধ করে জীবাণুমুক্ত করার পর ফের চালু করা হয়েছে।

কালের কণ্ঠ’র হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, লাখাইয়ে এক চিকিৎসক ও দুই নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় সাত দিনের জন্য হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার একজন নার্স এবং গত সোমবার একজন চিকিৎসক ও অন্য একজন নার্সের করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে পজিটিভ এসেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা কর্মকার। এদিকে হাওর অধ্যুষিত লাখাই উপজেলার একমাত্র হাসপাতালে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাসে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ও স্টাফ সংক্রমিত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে ওই হাসপাতালটি। ফলে এ উপজেলার দুই লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্ভোগ পেরিয়ে অসুস্থ রোগীদের জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। কয়েকজন নার্স, কর্মচারী ও রোগীর করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসায় গত ১৩ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুভাষ সরকার বলেন, ‘হাসপাতালের স্টাফদের মধ্যে করোনাভাইরাস পজিটিভ থাকায় তাঁদের মাধ্যমে যেন অন্যরা সংক্রমিত না হয় সে জন্য হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম কয়েক দিন বন্ধ রাখা হয়েছে। এবং হাসপাতালের সব স্টাফকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.