শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

কার্ডধারীরাই জানে না কার্ডের কথা

Reporter Name / ১৬৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০, ৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের উত্তর মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিন বছর ধরে তাঁর নামে ওএমএসের বরাদ্দ চাল উঠছে। অথচ তাঁর নামে কার্ড আছে তিনি জানেন না। খবর পেয়ে গত বুধবার ডিলারের ঘরে হাজির হলে তাঁকে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। বলা হয় এ কথা কাউকে না জানাতে। এখন তিনি নিয়মিত চাল পাবেন বলেও জানানো হয়। শুধু আব্দুর রাজ্জাকই নন, এলাকার অনেকেরই অভিযোগ, তিন বছর ধরে তাঁদের নামেও চাল উত্তোলন করা হলেও তাঁরা কিছুই জানেন না।

উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গরিবের প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ৬০০ টন চালের বেশির ভাগই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারণার শিকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দবির উদ্দিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আমাকে একটি কার্ড করে দেন। শুরুতে একবার মাত্র চাল পেয়েছিলাম। এরপর গত সাড়ে তিন বছরে আর চাল পাইনি। গত বুধবার চাল বিতরণের সময় উপস্থিত হয়ে তালিকা দেখতে চাইলে সরকারি কর্মকর্তা সুখেন কুমার বলেন তালিকায় আমার নাম আছে। এরপর আমাকে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। আমার মতো কয়েক শ লোকের নামে কার্ড আছে, অথচ তাঁরা চাল পান না। অনেকেই এক-দুইবার পেলেও তাঁদের কপালে আর চাল জোটেনি।’

ওই ইউনিয়নের কুঠিপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের রাশিদুল ইসলাম, জোয়াদ আলী, সিদ্দিক আলীসহ অন্তত ৩০ জন মানুষের অভিযোগ, তারা গত তিন বছরেও কোনো চাল পায়নি। অথচ তাদের নাম তালিকায় আছে। জেলা খাদ্য অফিস থেকে পাওয়া তালিকা ঘেঁটে এসবের সত্যতা মিলেছে।

জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নে প্রতিবছর দুটি ধাপে ৮০০ কার্ডধারীর অধীনে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ইউনিয়নে দুজন ডিলার রয়েছেন। দুর্গাপুর বাজারে মিন্টু হোসেন গোস্বামী, অন্যজন শংকরদিয়া বাজারে আলীউল আজিম। এর মধ্যে মিন্টু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজ উদ্দিনের ভাই, অন্যজন চেয়ারম্যানের আত্মীয়।

ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সুখেন কুমার পাল বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘সময়ের অভাবে আমি সব সময় যেতে পারি না। অনেক সময় একজনের কার্ডে অন্যজন চাল নিয়ে চলে যায়।’

ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বলেন, ‘কিছু অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। এবারের মতো সুযোগ দেন, যাতে আগামীতে আর ভুলত্রুটি না হয়।’ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘চাল নিয়ে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তালিকায় যাদের নাম আছে, তারা কেন চাল পায়নি, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.