মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

শোকাবহ ৩ নভেম্বর – শামীমা সুলতানা

শামীমা সুলতানা / ৩০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০, ২:২৯ অপরাহ্ন
শামীমা সুলতানা

শোকাবহ ৩ নভেম্বর
   শামীমা সুলতানা


 বাঙালি  বীরের জাতি, বাঙালির ইতিহাসে রয়েছে নানা অর্জন রয়েছে  গৌরব উজ্জল অধ্যায়। তেমনি রয়েছে কিছু শোকাবহ কলঙ্কিত অধ্যায় বাঙালির ইতিহাসে যেমন রয়েছে বিজয় গাঁথা  ১৯৫২, ১৯৭১ তেমনি রয়েছে কলঙ্কিত ১৯৭৫  । ৭৫এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
যার  বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীনতা নামক অমূল্য সম্পদ  সেই স্বাধীন বাংলার বুকে নেমে আসে শোকের কালো ছায়া। ৩ নভেম্বর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা তাজউদ্দিন আহমেদ, এ, এইচ, এম কামরুজ্জামান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম , মনসুর আলীকে। যারা ছিলেন
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক  সহচর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অবর্তমানে যারা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব  দিয়েছিলেন সেই চার নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে   বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং গুলি করে পৈচাশিক  নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করে, কারাগার একটা আইনি নিরাপত্তা’ স্থান এ কথা জানা থাকলেও সেখানে নিরাপত্তা লংঘন করে রচিত হয় ইতিহাসের কালো অধ্যায়। জাতির চার সূর্যসন্তাকে হত্যা করা হয় ইতিহাসে এ এক বর্বরোচিত হত্যা কান্ড। যা আজ জেলহত্যা দিবস নামে পরিচিত এ দিবসটি যেমন বেদনার তেমনই জাতির জন্য লজ্জার । স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি, ১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রু মেনে নিতে পারেনি এদেশের স্বাধীনতা! শত্রুরা প্রতিশোধ নিতে  দেশি-বিদেশি চক্র এদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে আদাজল খেয়ে নামে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে নানা ফন্দি আটে। দুর্ভাগ্যবশত একে একে সংগঠিত করে দুটি হত্যাযজ্ঞ, প্রথমত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে দ্বিতীয়তঃ মুজিবনগর সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারী আত্মত্যাগী নেতাদের হত্যা করে। আওয়ামী লীগকে তথা বাঙালিকে নেতৃত্বশুন্য করার লক্ষ্যে মেতে ওঠে স্বাধীন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের পদানত করতে উঠে পড়ে  লাগে। এই চার নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্য হচ্ছে এরাই বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এদেশের মুক্তিকামী জনগণ কে একত্রিত করে ছিনিয়ে এনেছেন স্বাধীনতা উঁচিয়ে ধরেছেন বিজয়ের পতাকা এরাই ছিলেন রাষ্ট্র বিনির্মাণের অগ্রপথিক, যাদের সর্বস্ব দিয়েছেন দেশ ও  দেশের মানুষের কল্যাণে।

নিঃস্বার্থ ত্যাগ ই হল এদের কাল! আসলে ১৫ আগস্ট আর ৩রা নভেম্বর ড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশার অভিন্ন সূত্রে গাঁথা  বঙ্গবন্ধুকে সরিয়েও   শত্রুরা ভুগছিলো  অনিশ্চয়তায় বাংলাকে পাকিস্তানে  রূপান্তর করার চেষ্টায় ছিল  সংশয়। এই চার নেতা বেঁচে থাকলে হয়তো তাদের নীল নকশার জাল ছিড়ে ফেলেবে তাই শত্রুদের পথ সুগম করতে চিরতরে নিভিয়ে দেয়  জাতির চার- চারটে জ্বলন্ত প্রদীপ ,সবুজ বাংলাকে করে ফেল অন্ধকারাচ্ছন্ন।  তাজউদ্দিন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন ২৩ জুলাই ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে  মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ১৯৭৪  সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বাধীনতা- পরবর্তীকাল থেকে। আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জন্মগ্রহণ করেন ২৬জুন ১৯২৪খ্রিস্টাব্দে
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম এই নেতা বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত অস্থায়ী সরকারের স্বরাষ্ট্র কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন, একজন নির্লোভ নিরহংকার দেশ প্রেমিক নেতা হিসেবে আজও বাংলার মানুষের হৃদয়  শ্রদ্ধার আসনে
অধিষ্ঠিত  আছেন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন ১৮ ই ফেব্রুয়ারি ১৯২৫  খ্রিস্টাব্দে এই আদর্শবাদী রাজনীতিবিদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ২৭ এপ্রিল থেকে ১৯ জানুয়ারি ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী  রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন ।

  ১৯৭৫ এর ১৫  আগস্ট  জাতির জনকের হত্যার শোকাবহ সময় তিনি উপরাষ্ট্রপতি হওয়া সত্ত্বেও হত্যাকারীদের জন্য রাস্ট্রপতির অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি
হিসেবে শপথ নিতে পারেননি   এভাবেই শত্রুরা তাদের অপশক্তির জাল বুনে চলছিল।  মুহাম্মাদ মনসুর আলী জন্মগ্রহণ করেন ১৬ জানুয়ারির ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে এই রাজনৈতিক নেতা পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
ছিলেন ১৯৪৮ সালে পি, এল , জি ‘র ক্যাপ্টেন পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যশোর সেনানিবাসে  প্রশিক্ষণ নেন, মুক্তি যুদ্ধের প্রাক্কালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব  পালন করেন ।  এই চার নেতা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাদের আত্মত্যাগ দেশ প্রেম
কালের সাক্ষী হয়ে আছে। তাদের  জীবনাদর্শ বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ  রাজনীতিবিদদের তথা সচেতন দেশ প্রেমিক নাগরিকদের পথপ্রদর্শক হয়ে আছে তারা থাকবেন অগ্রে এবং পাছে ইতিহাসের  আলোকবর্তিকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.